আজকাল ওয়েবডেস্ক: টাকার লোভে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য জোরাজুরি। অবশেষে নববধূকে খুন করে, বাবার বাড়ির সামনে নিথর দেহ ছুড়ে ফেলে পালালেন অভিযুক্তরা। পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হল থানায়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের বৈশালীতে। রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, এক নববধূর রহস্যমৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে এই জেলায়। নববধূর মৃতদেহ উদ্ধারের পরেই তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছে পরিবার। সরন জেলায় হরিহর নাথ থানার অন্তর্গত পেড়িয়া বাজার এলাকায় বাবার বাড়ির সামনেই লুটিয়ে ছিল নববধূর নিথর দেহ।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগ, গত ১৬ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ কালো রঙের স্করপিও গাড়িতে করে নববধূর দেহটি এনে বাড়ির সামনে ফেলে দিয়েছিলেন অভিযুক্ত এক যুবক। এরপর ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। ওই গাড়িটি পুলিশের এক সাব ইন্সপেক্টরের। পরদিন সকালে বাড়ির সামনে থেকে নববধূর দেহটি উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। খতিয়ে দেখা হয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ।
মৃত তরুণীর নাম, সরিতা। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, ন'মাস আগে সত্যেন্দ্র কুমারের সঙ্গে সরিতার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের সময় সামর্থ্য অনুযায়ী পণ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট ছিলেন না সরিতার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। আরও নগদ টাকার দাবি জানিয়েছিলেন। জমির রেজিস্ট্রেশনের জন্য আট লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। সরিতার শ্বশুরবাড়ি আরও তিন লক্ষ টাকা দাবি করেছিল। এই টাকা নিয়েই নিত্যদিন হেনস্থা করা হত তাঁকে।
পরিবারের অভিযোগ, সরিতাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। গলায় দাগ রয়েছে তাঁর। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির পাঁচজন সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকের গাড়ি কেন এই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় ওই পুলিশ আধিকারিক জড়িত কিনা, তাও তদন্ত করছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত আগস্ট মাসে পণের দাবিতে আরও এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। পণের জন্য সদ্য বিবাহিত তরুণীর গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল বিহার। এবারেও পণ হিসেবে সোনার গয়নার দাবি করেছিল শ্বশুরবাড়ি। কিন্তু খানিকটা সময় চেয়েছিলেন তরুণীর বাবা। অধৈর্য হয়ে তরুণীকে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল তাদের বিরুদ্ধে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল বিহারের খাগাড়িয়া জেলার বরখান্দি তোলা গ্রামে। জানা গেছে, তরুণীর সঙ্গে বিভীষণ যাদবের বিয়ে হয়েছিল এক বছর আগে। তরুণীর বাবা জাদো যাদব জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পণের জন্য হেনস্থা করতেন তরুণীকে। আরও সোনার গয়নার দাবি করতেন তাঁরা। এদিকে তরুণীর বাবা আশ্বাস দেন, আর দুই মাস পরেই তিনি সব দাবি পূরণ করবেন।
কাঁদতে কাঁদতেই জাদো যাদব জানান, 'আমি শুধুমাত্র দুই মাস সময় চেয়েছিলাম!' আরেক আত্মীয় জানান, সোনার গয়না না পেলে তরুণীকে খুনের হুমকিও দিয়েছিল তারা। তাঁদের আরও অভিযোগ, আগে বিভীষণ চাষবাসের কাজ করতেন। কিন্তু গত মাস ধরেই বিহারেই গাঁজা ও বিষমদ বিক্রি করতেন। তরুণীর ভাইয়ের অভিযোগ, প্রথমে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। এরপর তাঁর দেহটি ঝুলিয়ে দেন। তরুণীর শরীরেও আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তরুণীর বাবা জানিয়েছিলেন, 'আমার যা সার্মথ্য ছিল, সবকিছুই দিয়েছিলাম। তাও সোনার হার আর গাড়ির দাবি করছিল মেয়ের শ্বশুরবাড়ি। সদ্য ছেলের বিয়ে দিয়েছি। ছেলের বিয়ের সময় থেকেই সোনার হারের দাবিদাওয়া শুরু হয়। দুই মাস সময় চেয়েছিলাম। তার মধ্যেই মেয়েকে খুন করে দিল।' তরুণীর দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছিল পুলিশ। অভিযুক্তরা সকলেই পলাতক।
