আজকাল ওয়েবডেস্ক: গোরক্ষকদের সঙ্গে গবাদি পশু বহনকারীদের সংঘর্ষে ২৮ বছরের এক যুবকের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে হরিয়ানা-রাজস্থান সীমান্ত এলাকায়। মৃত যুবক আমিরের পরিবার দাবি করেছে, তিনি সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন না, বরং পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গুলিতে নিহত হন।
আমিরের পরিবারের অভিযোগ, বজরং দলের কর্মীরাই তাঁকে গুলি করে হত্যা করেছে। যদিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে, মৃত্যু গুলিতে নাকি পাথরের আঘাতে হয়েছে। অন্যদিকে দৈনিক ভাস্করের ইংরেজি সংস্করণের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আমির হরিয়ানার পলওয়াল জেলার উতাওয়াদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিবাহিত এবং তাঁর দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ঘটনাস্থল নিয়ে দুই প্রতিবেদনে কিছু পার্থক্য রয়েছে। The New Indian Express জানায়, রাজস্থানের ভিওয়াড়ির ডিএসপি কৈলাশ চৌধুরী বলেছেন, গবাদি পশু বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানকে একদল লোক ধাওয়া করছিল। সারেকালা গ্রামের কাছে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং পাথর ছোড়া হয়। একই ডিএসপি-র বক্তব্য উদ্ধৃত করে দৈনিক ভাস্কর জানিয়েছে, আমির ওই পিকআপ ভ্যানেই ছিলেন।
&t=21sতবে আমিরের পরিবার এই দাবি অস্বীকার করেছে। তাঁর কাকা ইয়াহিয়া বলেন, “হিংসা শুরু হওয়ার সময় আমির রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে।” ময়নাতদন্ত বিকেল ৫টা নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। গবাদি পশু বহনকারীরা ‘পাচারকারী’ ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা আছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, রাজস্থান ও আশপাশের এলাকায় গোরক্ষার নামে হিংসার একাধিক ঘটনা অতীতে ঘটেছে। ২০১৭ সালে পেহলু খান হত্যাকাণ্ড এবং ২০১৮ সালে রাকবর খানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। এই ঘটনাগুলিতে মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষজনই বেশি আক্রান্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি।
