আজকাল ওয়েবডেস্ক: হঠাৎ পেটে ব্যথা। কিশোরীকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে যায় পরিবার। পরীক্ষার পর জানা যায়, দশম শ্রেণির ছাত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অবশেষে পুলিশের কাছে ফাঁস হল আসল ঘটনা। যা জেনেই চোখ কপালে সকলের। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ধর জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের শিকার হয়েছিল ১৬ বছরের এক কিশোরী। সম্প্রতি জানা গেছে, সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। দিন কয়েক আগেই কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পেট ফুলে গিয়েছিল। তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। 

 

হাসপাতালে পরীক্ষানিরীক্ষার পর জানা যায়, ১৬ বছরের ওই কিশোরী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপরই থানায় অভিযোগ দায়ের করে কিশোরীর পরিবার। পকসো ধারায় মামলা রুজু করা হয়। 

 

জানা গেছে, দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী এক বেসরকারি স্কুলের ছাত্রী। একবছর আগেই অভিযুক্ত তরুণের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। বাড়িতে এবং স্কুলের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতেন ওই অভিযুক্ত তরুণ। আলাপ হওয়ার এক সপ্তাহ পরেই তাঁর সঙ্গে লং ড্রাইভে যাওয়ার প্রস্তাব দেন অভিযুক্ত। নির্জন এলাকায় কিশোরীকে নিয়ে গিয়ে জোরজবরদস্তি শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন তিনি। এমনকী সেদিন ধর্ষণ করেন বলেও অভিযোগ জানিয়েছে কিশোরী। 

 

কিশোরীর অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিন দু'টি ভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন তরুণ। এরপর বাড়িতেও পৌঁছে দেন। এর জেরেই গর্ভবতী হয়ে পড়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী। গত কয়েক মাস ধরেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল তার। মঙ্গলবার হাসপাতালে পরীক্ষার পরেই আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। 

 

প্রসঙ্গত, গত বছর বেঙ্গালুরুতে গণধর্ষণের শিকার হন বাংলার এক তরুণী। গণধর্ষণের পরেও শান্তি হয়নি। এরপর ওই তরুণীর বাড়ি থেকে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। তিনজনকে আটক করে জেরা শুরু করে পুলিশ। আরও দু'জনের খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর গঙ্গোন্দাহাল্লিতে। বাংলার এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল পাঁচজনের বিরুদ্ধে। গণধর্ষণের পর তরুণীর বাড়ির সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। 

 

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৯টা বেজে ১৫ মিনিট থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণধর্ষণ ও চুরির ঘটনাটি ঘটেছিল। ওই বাড়িতে ছ'জন বাসিন্দা ছিলেন। রাতে ওই পাঁচ যুবক দরজা ধাক্কাধাক্কি করে, তা খোলার জন্য হুমকি দেয়। এরপর রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ নির্যাতিতার বড় ছেলে পুলিশে ফোন করে অভিযোগ জানায়। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা। 

 

পুলিশ আধিকারিক সিকে বাবা জানিয়েছেন, গণধর্ষণের পর অভিযুক্তরা ওই বাড়ি থেকে দু'টি দামি মোবাইল ফোন এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যান। নির্যাতিতা তরুণী পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। এই এলাকায় তিনি আরও দু'জন মহিলা, দু'জন বয়স্ক ব্যক্তি ও দু'জন শিশুর সঙ্গে থাকতেন। 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ অভিযুক্ত ওই এলাকার বাসিন্দা। নির্যাতিতা তরুণী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে নির্যাতিতার পূর্ব পরিচিত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কার্তিক, গ্লেন, সুযোগ নামের তিন অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। বাকি দুই অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। গণধর্ষণ ও চুরির মামলা রুজু করে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।