আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক সময় উদারপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিতমুম্বাই প্রেস ক্লাব এবার এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে শোরগোল ফেলেছে। এলগার পরিষদ মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন মানবাধিকার কর্মী ও শিক্ষাবিদের জানুয়ারিতে ক্লাব প্রাঙ্গণে অনানুষ্ঠানিক উপস্থিতি নাকি প্রতিষ্ঠানের ‘সম্মানহানি’ ঘটাতে পারে—এই অভিযোগে ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি গুরবীর সিংহকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে।

ক্লাবের সম্পাদক ময়ূরেশ গণপাটায়ে শোকজ নোটিসে লিখেছেন, গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতি ক্লাবকে “অপ্রত্যাশিত প্রচার” ও ভাবমূর্তি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের জমায়েত ক্লাবের ঘোষিত উদ্দেশ্য ও মর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গত বলে মনে হতে পারে। গণপাটায়ে পরে জানান, একটি অভিযোগের ভিত্তিতেই নোটিস জারি করা হয়েছে এবং বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন।

সিংহ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এটি ছিল সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। “আমি আয়োজন করিনি। ফোনে জানতে পারি যে কয়েকজন আসছেন। পরে বিলের প্রাথমিক টাকা আমি দিই, বাকিটা সবাই ভাগ করে দেয়—ক্লাবে এটাই প্রচলিত রীতি,” বলেন তিনি। শোকজের ভিত্তিতে তাঁর সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের মতো পদক্ষেপও বিবেচনায় রয়েছে।

&t=21s

বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে কারণ কয়েক মাস আগেই একই কমিটির আমলেই ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল শিক্ষাবিদ ও নাগরিক অধিকার কর্মী আনন্দ তেলটুম্বদের বই Iconoclast: A Reflective Biography of Dr Babasaheb Ambedkar-এর প্রকাশ অনুষ্ঠান। তেলটুম্বদে বলেন, ক্লাব “প্রতিক্রিয়াশীল হিন্দুত্ববাদী প্রতিষ্ঠানের চাপে বিপজ্জনক পথে হাঁটছে।” তাঁর বক্তব্য, বই প্রকাশ অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করেছিল ক্লাব ও Penguin Random House।

এছাড়া তেলুগু কবি ও অভিযুক্তদের অন্যতম ভারাভারা রাও-র কবিতা অনুবাদের প্রকাশ অনুষ্ঠানও আগে ক্লাবেই হয়েছিল। সমালোচকদের প্রশ্ন, একাধিক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত রাজনীতিবিদরা নিয়মিত ক্লাবে এলে আপত্তি না থাকলেও, মানবাধিকার কর্মীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন মানদণ্ড কেন?

শোকজ নোটিসের প্রতিবাদে দুই প্রবীণ সাংবাদিক—বার্নার্ড ডি’মেলো ও শ্রীকান্ত মোদক—ক্লাব কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, মতবিনিময় ও বিতর্কের মুক্ত পরিসর তৈরি করাই প্রেস ক্লাবের উদ্দেশ্য; এই নোটিস সেই চেতনার পরিপন্থী এবং ক্লাবের উপবিধিতেও এর সমর্থন নেই।

সমস্ত বিতর্কের কেন্দ্রে এখন প্রশ্ন একটাই—মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের জায়গা হিসেবে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘সম্মান’ রক্ষার সংজ্ঞা ঠিক কী?