আজকাল ওয়েবডেস্কঃ ডাক্তারির স্নাতকে ভর্তির সর্বভারতীয় পরীক্ষা নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁস ঘিরে তোলপাড় দেশজুড়ে। মঙ্গলবার এর জেরে বাতিল করা হয়েছে চলতি বছরের পরীক্ষা। এর ফলে দেশের প্রায় ২২ লক্ষ মেডিক্যাল পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ (এনটিএ) ভূমিকা নিয়ে সরব পড়ুয়া থেকে শিক্ষক, সকলেই। এ বার এনটিএ-কে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছেন জনপ্রিয় শিক্ষক এবং শিক্ষাবিদ খান স্যার। এনটিএ-কে তীব্র কটাক্ষ করে 'নন-ট্রাস্টেড এজেন্সি' বা অবিশ্বস্ত সংস্থা বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় স্তরের পরীক্ষা স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করার ক্ষমতা নিয়ে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে খান স্যার অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস আজকাল নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর দাবি, ঘটনার শুরুতেই এনটিএ বিষয়টিকে স্বচ্ছতার সঙ্গে মোকাবিলা না করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, "প্রতিবারই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এনটিএ সঠিকভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারছে না। প্রথমদিকে এনটিএ বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার বদলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।" তাঁর আরও দাবি, তদন্তকারী সংস্থাগুলি তৎপর হওয়ার আগেই পরীক্ষার্থীরাই প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য প্রকাশ্যে আনে।
পরীক্ষার্থীদের কঠিন লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরেন খান স্যার। তিনি জানান, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের পড়ুয়ারাই বহু কষ্ট করে এই পরীক্ষায় বসেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, " মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এমন পাঁচ লক্ষ পরীক্ষার্থী রয়েছেন, যাঁরা রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে চট পেতে রাত কাটিয়েছেন। এঁদের পক্ষে কি আবার নতুন করে পরীক্ষায় বসা এত সহজ?" তাঁর মতে, ফের পরীক্ষার আয়োজন করা হলে পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারের ওপর আর্থিক ও মানসিক চাপ আরও বেড়ে যাবে।
খান স্যারের কথায় ছাত্রীদের সমস্যার কথা উঠে এসেছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, সামাজিক ও পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে অনেক মেয়ে হয়তো দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগই পাবেন না। তিনি জানান, পড়ুয়াদের জীবন নিয়ে খেলা হচ্ছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া এবং মেসেজিং অ্যাপে যেভাবে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অসাধু চক্রটির সঙ্গে কিছু কোচিং সেন্টারেরও যোগসূত্র থাকতে পারে। তিনি সেগুলির বিরুদ্ধেও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানান। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে সরাসরি এই তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি চালানোর অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি দোষীদের কড়া শাস্তির দাবিও জানান।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে দেশজুড়ে নিট ইউজির আয়োজন করা হয়। তার কয়েকদিন পরেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই পরীক্ষা বাতিল করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। জানিয়েছে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এনটিএ-র তরফে পরবর্তী পরীক্ষার দিন ঘোষণা করা হবে।















