আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে এক বড়সড় মোড় এল। মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পুলিশ শুভম খৈরনার নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে, যা এই চক্রের শিকড় কত গভীরে তা আবারও স্পষ্ট করে দিল। রাজস্থান পুলিশের দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নাসিক ক্রাইম ব্রাঞ্চ গত ১২ মে ইন্দিরা নগর এলাকা থেকে বছর ত্রিশের এই যুবককে পাকড়াও করে।
শুভম নিজে ভোপালের একজন মেডিক্যাল সায়েন্সের ছাত্র। তদন্তে উঠে এসেছে যে, গ্রেপ্তারি এড়াতে তিনি নিজের চুল কেটে ও বেশভূষা বদলে ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন, এমনকি ধরা পড়ার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি; পুরনো ছবির সঙ্গে চেহারা মিলিয়ে পুলিশ তাকে শনাক্ত করে।
তদন্তকারীদের দাবি, পরীক্ষার কয়েকদিন আগেই শুভমের হাতে প্রশ্নপত্রের একটি ফিজিক্যাল কপি বা হার্ড কপি এসে পৌঁছেছিল। পুনের এক ছাত্রের কাছ থেকে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে তিনি এই প্রশ্নপত্র জোগাড় করেন বলে অভিযোগ। জানা গেছে, প্রায় ১০ লক্ষ টাকায় প্রশ্নপত্রটি কিনে তিনি হরিয়ানার এক ব্যক্তির কাছে ১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেন।
এই ঘটনায় শুধু নাসিক নয়, সারা দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঁচটি রাজ্য থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তত ৪৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। এই পুরো চক্রের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে মনীশ যাদব নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যাকে ইতিমধ্যেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রাকেশ মন্দাওয়ারিয়া নামে আরও এক অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র বিলি করার অভিযোগ রয়েছে।
৩ মে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে একটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ‘গেস পেপার’-এর হুবহু মিল পাওয়া যাওয়ার পরেই জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) শেষ পর্যন্ত নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
কেন্দ্রীয় সরকার পুরো ঘটনার তদন্তভার সিবিআই-এর (CBI) হাতে তুলে দিয়েছে। এনটিএ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর প্রাথমিক তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ মেলায় এই পরীক্ষা আর বহাল রাখা সম্ভব নয়। শীঘ্রই পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই বছর প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এই পরীক্ষায় বসেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার এই বাতিলের সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
কবে নতুন করে পরীক্ষা হবে, প্রস্তুতির সময়রেখা কী হবে এবং সামগ্রিক ভর্তি প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে—তা নিয়ে গভীর চিন্তায় রয়েছেন লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী। এক ছাত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর কিছু অসাধু চক্রের লালসার বলি হয়ে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে ভারতের অন্যতম বড় এই প্রবেশিকা পরীক্ষা।















