ফলহারিণী অমাবস্যা হিন্দু ধর্মে এক খুবই শক্তিশালী ও রহস্যময় তিথি হিসেবে বিবেচিত। জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথির এই বিশেষ রাতকে অনেক জ্যোতিষী ও সাধক 'বছরের শ্রেষ্ঠ মহালগ্ন' বলে মনে করেন।
2
10
কথিত রয়েছে, এই এক রাতেই জীবনের বহু দুঃখ-কষ্ট, অশুভ শক্তি এবং শনির কুপ্রভাব থেকে মুক্তির পথ খুলে যেতে পারে। এবছর ফলহারিণী কালীপুজো পালিত হবে আগামী শনিবার, ১৬ মে। বাংলার ১ জ্যৈষ্ঠ৷
3
10
রাষ্ট্রপতি পুরস্কার বিজয়ী জ্যোতিষী সোহিনী শাস্ত্রী জানিয়েছেন, এই অমাবস্যার অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এটি কর্মের শুদ্ধিকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। 'ফলহারিনী' শব্দের অর্থ 'ফলাফল হরণকারী' যা সেই দিব্য শক্তির প্রতীক যা অতীতের কর্মের কঠোর পরিণতি কমিয়ে দিতে পারে।
4
10
জ্যোতিষশাস্ত্রে শনির সাড়ে সাতি অত্যন্ত কঠিন একটি সময় হিসেবে পরিচিত। এই সময়ে মানুষকে মানসিক চাপ, আর্থিক সমস্যা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, কর্মক্ষেত্রে বাধা এবং একাকীত্বের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
5
10
ফলহারিণী অমাবস্যার রাতে ভক্তিভরে দেবী কালী বা শনিদেবের আরাধনা করলে কিংবা আন্তরিক প্রার্থনা, উপবাস, দান এবং আধ্যাত্মিক সাধনা করলে শনির কঠিন প্রভাবকে কমানো যেতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে পারে। এতে শনির অশুভ প্রভাব অনেকটাই কমে বলে বিশ্বাস করা হয়।
6
10
সোহিনী শাস্ত্রীর মতে, 'ফলহারিণী' তিথি এমন এক আধ্যাত্মিক সময় যখন অতীতের নেতিবাচক কর্মফলের প্রভাব কমানোর সুযোগও তৈরি হয়।
7
10
আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য অনুসারে, এই রাতের শক্তি বিশেষভাবে প্রবল হয়ে ওঠে কারণ আকাশে চন্দ্র অনুপস্থিত থাকে, যা গভীর অবচেতন মনের শুদ্ধিকরণ এবং উচ্চতর আধ্যাত্মিক একাগ্রতার সুযোগ করে দেয়। তান্ত্রিক সাধক এবং দেবী কালীর ভক্তরা এটিকে ধ্যান, মন্ত্র জপ এবং ঐশ্বরিক সুরক্ষা প্রার্থনার জন্য একটি আদর্শ সময় বলে মনে করেন।
8
10
অনেকে শনি সম্পর্কিত প্রতিকারও পালন করেন, তাই এই রাতে উপবাস, জপ, ধ্যান, দান-পুণ্য ও বিশেষ তন্ত্রসাধনার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে কালো তিল দান করেন, সরষের তেলের প্রদীপ জ্বালান এবং শনিমন্ত্র জপ করেন।
9
10
ফলহারিণী অমাবস্যা আত্মসমর্পণ এবং নবায়নের সঙ্গেও যুক্ত। এটি ভক্তদের মনে করিয়ে দেয় যে যখন কেউ শৃঙ্খলা, বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিকতাকে জাগিয়ে তোলে, তাই কোনও কর্মের ভার স্থায়ী হয় না। এই কারণেই অনেক জ্যোতিষী ও আধ্যাত্মিক সাধক একে বছরের সবচেয়ে শুভ রাত্রি বলে থাকেন এক বিরল মহাজাগতিক সুযোগ, যখন অন্ধকার আত্মার মুক্তি ও শান্তির ঘটে।
10
10
অমাবস্যার অন্ধকারকে জীবনের অজ্ঞতা ও কষ্টের প্রতীক ধরা হয়, আর সেই অন্ধকার ভেদ করেই আত্মিক জাগরণ ঘটে। তাই ফলহারিণী অমাবস্যা শুধুমাত্র একটি তিথি নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, কর্মমুক্তি এবং নতুন আশার সূচনার এক বিরল মহামুহূর্ত। বিশ্বাস করা হয়, এই রাতেই ভক্তি ও সাধনার মাধ্যমে ভাগ্যের অন্ধকার দূর হয়ে জীবনে শান্তি ও শক্তির আগমন ঘটে।