আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতিতে আরও একটি নজির গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইনস্টাগ্রামে ১০০ মিলিয়ন ফলোয়ার তাঁর। অঙ্কের হিসাবে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১০ কোটি বিশ্বের প্রথম কোনও রাষ্ট্রনেতা ও রাজনীতিক হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন বৃহস্পতিবার।
২০১৪ সালে ইনস্টাগ্রামে যোগ দেওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদির জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি। বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের তুলনায় অনেক এগিয়ে। উল্লেখ্য, তাঁর অনুসারীর সংখ্যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ট্রাম্পের ইনস্টাগ্রাম অনুসারী সংখ্যা প্রায় ৪৩.২ মিলিয়ন বা ৪.৩২ কোটি।
অন্যান্য বিশ্বনেতাদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর অনুসারী সংখ্যা প্রায় ১৫ মিলিয়ন অর্থাৎ, ১ কোটি ৫০ লক্ষ। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার অনুসারী সংখ্যা ১ কোটি ৪৪ লক্ষ। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের অনুসারী সংখ্যা ১ কোটি ১৬ লক্ষ এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের হেরার্দোর অনুসারী সংখ্যা ৬৪ লক্ষ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই পাঁচ জন বড় বিশ্বনেতার মোট অনুসারীর সংখ্যাও প্রধানমন্ত্রী মোদির একার অনুসারীর চেয়ে কম।
ভারতের অভ্যন্তরেও ইনস্টাগ্রামে প্রধানমন্ত্রী মোদি অন্য রাজনৈতিক নেতাদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ১ কোটি ৬১ লক্ষ অনুসারী নিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর পিছনেই আছেন রাহুল গান্ধী। অনুসারী সংখ্যা ১ কোটি ২৬ লক্ষ।
ইজরায়েলে দু’দিনের সরকারি সফরে থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রীর হাতে এল এই সফলতার খবর। বুধবার তিনি ইজরায়েলি সংসদ নেসেটের সর্বোচ্চ সম্মান “স্পিকার অফ দ্য কনেসেট মেডেল” লাভ করেন। ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক জোরদার করতে তাঁর ব্যক্তিগত নেতৃত্বের ‘অসাধারণ অবদান’-এর স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান প্রদান করা হয়।ইজরায়েলি সংসদে ভাষণ দেওয়ার পর তাঁকে এই পদক প্রদান করা হয়। ভাষণের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি স্ট্যান্ডিং ওবেশন পান। ভাষণে তিনি বলেন, ভারতের জনগণের মধ্যে ইজরায়েলের দৃঢ়তা, সাহস ও সাফল্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিপুল জনপ্রিয়তা কেবল ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন নয়, বরং আধুনিক রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের গুরুত্বও তুলে ধরে। প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সাফল্য বিশ্ব রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
এখন প্রশ্ন একটাই। ইনস্টাগ্রামের ফলোয়ার সংখ্যা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? এই সংখ্যাই কি তবে নির্ধারণ করছে ভোট ব্যাঙ্কের হিসেব?
