আজকাল ওয়েবডেস্ক: দু'দিন ধরে নিখোঁজ। শেষমেশ বিরিয়ানির দোকানে গিয়ে তল্লাশি চালাল পুলিশ। ফ্রিজার খুলতেই চমকে উঠল তারা। বিরিয়ানির দোকানের ফ্রিজার থেকে উদ্ধার ওই নিখোঁজ ব্যক্তির নিথর দেহ। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ৩৮ বছর বয়সি বিজয় পাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিলেন। রবিবার সকালে ভেজ বিরিয়ানির এক দোকানের ফ্রিজারে থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে ওই ভেজ বিরিয়ানির দোকান। 

পুলিশ জানিয়েছে, ভেজ বিরিয়ানির ওই দোকানের তিনটি দিক টিনের চালের তৈরি। আর সামনেটা ফাঁকা। দোকানে কোনও গেট নেই। যে ফ্রিজারে নিখোঁজ ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেটি চালু ছিল না। এবং বিরিয়ানির দোকানটিও গত তিনদিন ধরে বন্ধ ছিল। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, দোকানটি অস্থায়ীভাবেই তৈরি হয়েছিল। বন্ধ থাকা সত্ত্বেও দোকানের মধ্যে ফ্রিজার থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির দেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। কী কারণে মৃত্যু তা এখনও জানা যায়নি। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

ওই বিরিয়ানির দোকানের মালিক অজয় বিরিয়ানি সাপ্লাই করার জন্য দোকানে এসেছিলেন। তখনই ফ্রিজারটি খোলেন। দেহটি দেখেই তড়িঘড়ি পুলিশে খবর দেন। ফোন নম্বর ও আধার কার্ড দেখে নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পুলিশ। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এমনকী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

দিন কয়েক আগেই এই রাজ্যে আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। পড়াশোনার জন্য জোরাজুরি। তা ঘিরেই সম্পর্কের অবনতি। শেষমেশ বাবাকে নৃশংসভাবে খুন ছেলের। বাবাকে খুনের পর দেহ কয়েক টুকরো করে নীল ড্রামে লুকিয়ে রেখেছিলেন ছেলে। পরিকল্পনা ছিল, সেটি পুড়িয়ে ফেলার। অবশেষে সেই নীল ড্রাম থেকে ব্যবসায়ীর দেহের টুকরো উদ্ধার করল পুলিশ। এখনও কাটা মুণ্ডুটি পাওয়া যায়নি। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে। মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, ব্যবসায়ীকে খুনের অভিযোগে তাঁর ২১ বছরের ছেলেকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি নীল ড্রাম থেকে ব্যবসায়ীর দেহের টুকরো উদ্ধার করা হয়েছে। দেহের বাকি টুকরোগুলোর খোঁজে তল্লাশি চলছে। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, মৃত ব্যবসায়ীর নাম, মানবেন্দ্র সিং। তিনি ওষুধ ও মদের ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর কাটা মুণ্ডুটি এখনও নিখোঁজ। ধৃত তরুণের নাম, অক্ষত প্রতাপ। বাবাকে খুনের পর দুই পা, দুই হাত, মুণ্ডু কেটে টুকরো টুকরো করেন তিনি। এরপর একটি ব্যাগের মধ্যে দেহাংশ ভরে, নীল ড্রামের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিলেন। অক্ষতের পরিকল্পনা ছিল, দেহংশগুলি পুড়িয়ে ফেলার। ইতিমধ্যেই ১০ লিটার কেরোসিন ঢেলে দেহের কয়েক টুকরো পুড়িয়েও ফেলেছেন। 

ঘটনাটি চোখে পড়েছিল অক্ষতের বোনের। জানা গেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাগের মাথায় মানবেন্দ্রকে গুলি করে খুন করেন অক্ষত। খুনের পর রক্তাক্ত দেহটি তিন তলা থেকে একতলায় নামিয়ে এনে একটি ফাঁকা ঘরে লুকিয়ে রেখেছিলেন। বাবার দেহটি টুকরো টুকরো করে একাধিক ব্যাগের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিলেন। 

লখনউ থেকে দূরে এক জায়গায় কয়েকটি দেহের টুকরো ভর্তি ব্যাগটি ফেলে দিয়েছিলেন। বাকি কয়েকটি টুকরো নীল ড্রামের লুকিয়ে রেখেছিলেন। সেই নীল ড্রামটি পুড়িয়ে ফেলার পরিকল্পনা ছিল। খুনের পর বাবার নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন থানায়। দীর্ঘ জেরায় কান্নায় ভেঙে পড়ে বাবাকে খুনের ঘটনাটি স্বীকার করেন তিনি। 

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, মানবেন্দ্র চেয়েছিলেন, অক্ষত ডাক্তার হোক। কিন্তু পড়াশোনায় আগ্রহ ছিল না ছেলের। পড়াশোনাকে কেন্দ্র করেই বাবা ও ছেলের সম্পর্কে তিক্ততা বাড়তে থাকে। অতীতেও পড়াশোনার চাপে বাড়ি থেকে একবার পালিয়ে গিয়েছিলেন অক্ষত। বাড়ি ফেরার পরেও অশান্তি জারি ছিল। 

ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেন্সিক টিম। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন অক্ষত। খুনের কারণ খতিয়ে দেখার চেষ্টা জারি রেখেছে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে তারা।