আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজে দেওয়া হয়নি। তাই রাগের বশে ছেলে খুন করলেন মাকে। কর্ণাটকের হাসান জেলায় ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। পুলিশের তদন্তে সামনে এসেছে পারিবারিক সমস্যা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্তকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে হাসান জেলার চন্নরায়পত্তন তালুকের শ্রাবণবেলাগোলায়। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গঙ্গামা নামের এই মৃতার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। ছেলের সঙ্গে বেশ কয়েকদিন ধরেই ঝগড়া চলছিল তাঁর। স্থানীয়দের দাবি, বিয়ের জন্য যোগ্য পাত্রী চাই ছেলের। কিন্তু এখনও সুযোগ্য পাত্রী খুঁজে না পাওয়ায় মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ধীরে ধীরে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। উত্তেজনার পারদ চড়লে মায়ের গায়ে হাত তোলেন অভিযুক্ত। সেই হাতাহাতি মাত্রাতিরক্ত পর্যায় পৌঁছে যায়। মহিলাকে ভর্তি করা হয় এইচআইএমএস হাসপাতালের আইসিইউ-তে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। প্রাণ হারান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম ঊমাশঙ্কর। বছর চল্লিশের ওই যুবক অনেকদিন ধরেই বিয়ে করবেন বলে বাড়িতে জানিয়েছিলেন। খুঁজে দিতে বলেছিলেন যোগ্য জীবনসঙ্গিনীও। সেই চাহিদাতেই বাড়ির লোকেদের উপরে জোরাজুরি করতেন তিনি। এলাকাবাসীর বক্তব্য, ‘প্রায় দিনই বাড়িতে ঝামেলা লেগে থাকত। উঁচু গলায় কথা হত। হাতাহাতির আওয়াজও কখনও কখনও পেতাম। তবে সমস্যা এত দূর বেড়ে গিয়েছে বুঝতে পারিনি। এমন একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এটা আশা করিনি’।
জানা গিয়েছে, গত ২৬ মার্চ দু’জনের মধ্যে ঝামেলা চূড়ান্ত পর্যায় গিয়ে পৌঁছয়। নিজের বাড়িতেই মা-ছেলের মধ্যে ঝামেলা তুঙ্গে ওঠে। ঊমাশঙ্কর জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে স্বীকার করেছেন সেই কথা। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, মাকে বেধড়ক মারধর করেছেন। ছেলের হাতে মার খেয়ে নিজের বাড়িতেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন মহিলা। তারপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ৩০ মার্চ তারিখ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, ঊমাশঙ্করের কপাল ফাটার চিহ্ন। হাতাহাতিতে সেই কপাল ফেটেছে কিনা জানতে চাইলে ঊমাশঙ্কর জানান, কুম্ভমেলা থেকে ফেরার পথে একটা দুর্ঘটনায় মাথা ফাটে তাঁর। তারপর থেকে তিনি মাথার সমস্যায় ভুগছেন। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কথা স্বীকার করে বলেন, তাঁর রাগের সময়ে বারবার কাউকে আঘাত করার কথাও।
মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটিও তদন্তে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলেও তদন্ত চালাচ্ছে। শ্রাবণবেলাগোলা থানার তত্ত্বাবধানে এই ঘটনার তদন্ত চলছে।











