আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের বরেলি শহরে খোলা নর্দমায় পড়ে গিয়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। এই ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে ভারতের নিকাশি ব্যবস্থা। অভিযোগ, দেশের বহু জায়গায় আলগা পড়ে থাকে নর্দমা।

ফলে অনেক সময় সাধারণ নর্দমাও হয়ে উঠছে প্রাণঘাতী। বড় কোনও বিপদ না ঘটলে কারও চোখেই পড়ছে না এই সমস্যাগুলি। জানা গিয়েছে, হার্দোই জেলার বাসিন্দা মৃত ওই ব্যক্তির নাম মহম্মদ তৌহিদ।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ বাস ধরার উদ্দেশ্যে স্যাটেলাইট বাস টার্মিনাসে পৌঁছন তিনি। হঠাৎই বাসস্ট্যান্ডের কাছেই খোলা পড়ে থাকা নর্দমায় পা পিছলে পড়ে যান তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নর্দমাটির একটি অংশ পরিষ্কার করার জন্য খুলে রাখা হয়েছিল। সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছে, তৌহিদ, নর্দমার পাশের একটি উঁচু পাঁচিলে বসেছিলেন। তারপর হঠাৎই নর্দমায় পড়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, নর্দমায় স্রোত এত জোরালো ছিল যে তাঁকে একবারে অনেকটা ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায়। খবর ছড়াতেই তড়িঘড়ি শুরু হয় উদ্ধারকার্য। কিন্তু, নর্দমার গভীরতা প্রায় ১৫ ফুট তাছাড়া প্রচুর আবর্জনা ভর্তি ছিল।

পাশাপাশি জলের স্রোত অতিরিক্ত হওয়ায় ওই রাতে উদ্ধারকার্য স্থগিত রাখতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। পরদিন রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধারকার্য শুরু করে।

উদ্ধারকাজে নিয়োগ করা হয় ৮০ জনের একটা বড় দল। ব্যবহার করা হয় সাকশন পাম্প, ক্রেন ও পিলিং যন্ত্র। পাশাপাশি ভাঙা হয় নর্দমার কিছু অংশও। প্রায় ৩০ ঘন্টা ধরে খোঁজার পরে ২৫ মার্চ সকালে উদ্ধার হয় ওই ব্যক্তির মৃতদেহ।

জানা গিয়েছে, অনেকখানি কাদার নীচে তলিয়ে গিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। তাঁর পকেটে একটি আধার কার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। সেই পরিচয়পত্রের সাহায্যে দেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়। বরেলি পুলিশ জানিয়েছে, দেহ ময়নাতদন্তের পরে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, ওই নর্দমা খোলা পড়েছিল বেশ কয়েকদিন ধরেই। শেষবার গত বছরে পরিষ্কার করা হয় ওই নর্দমা। তারপর ঢাকনা ভেঙে গেলে তা আর মেরামত করা হয়নি।

সরকারি পরিবহণ দপ্তরের দাবি, পুরসভাকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

কারও কারও মন্তব্যে স্পষ্ট উঠে আসে, ‘ভারতের নর্দমাগুলিতে শুধু ময়লা নয়, সেখানে সারা দেশের রাসায়নিক বর্জ্যও এসে মেশে। ময়লা, আবর্জনা ও রাসায়নিক আবর্জনা মিলে মিশে এক ভয়ঙ্কর মিশ্রণ তৈরি হয়’।

কেউ আবার বলেন, দেশের নর্দমাগুলি মারাত্মক বিষাক্ত ও বিপজ্জনক। অনেকেই এই ঘটনাকে নেহাতই একটা দুর্ঘটনার রূপে দেখছেন না, বরং দেখছেন প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসাবে।

এক ব্যক্তির কথায়, ‘ভীষণই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা, কত সহজেই এই মর্মান্তিক মৃত্যুটিকে এড়ানো যেত’। আবার অন্য আরেক ব্যক্তির কথায়, ‘দেশ উন্নত হচ্ছে, এদিকে সাধারণ নিরাপত্তাটুকুও নেই। এই ঘটনা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ছাড়া আর কিছু নয়’।