আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের একটা সরকারি বাস ডিপো। সেখানে বহু সরকারি বাসচালক রয়েছেন। রয়েছেন বেশ কয়েকজন কন্ডাক্টর। যাত্রীও আছেন বেশ কিছু, বাসের অপেক্ষায়।
অন্যান্য দিনের মতোই বাস চলছে, যাত্রীরা ওঠানামা করছেন। তারই মধ্যে বাস টার্মিনাস চত্বরে দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। দেখা গেল, এক বাসচালক অপর একজন চালককে কাঁধে করে নিয়ে গোটা বাস টার্মিনাস চত্বর ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেন?
কারণ, কর্মক্ষেত্রের শেষ দিন ছিল তাঁর সহকর্মীর। বন্ধুকে বিদায়বরণের এমনই সুন্দর দৃশ্য এদিন দেখল নেটদুনিয়া। দীর্ঘ কর্মজীবনে ওই ব্যক্তি অসংখ্য যাত্রীকে সুরক্ষিতভাবে পৌঁছে দিয়েছেন যাঁর যাঁর জায়গায়।
জীবনের বেশিরভাগ সময়টা রাস্তাতেই কেটেছে। তবুও কখনও ক্লান্তি গ্রাস করেনি মনকে। সবসময় চনমনে থেকেছেন, হাসিখুশি থেকেছেন। সহকর্মীদের আগলে রেখেছেন নিজের পরিবারের মতো করে।
কারও জন্মদিন এলে নিজে আয়োজন করে সেলিব্রেট করেছেন। আবার কারওর বাড়ির কেউ অসুস্থ হলে ফল হাতে পৌঁছে গিয়েছেন তাঁর বাড়িতে। সেই সহকর্মীর আজ কাজের শেষদিন।
এরপর থেকে তিনি এই ডিপোতে আর আসবেন না। জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে চলেছেন তিনি। তাই শেষবেলায় সহকর্মীরা বন্ধুর পাশে দাঁড়ালেন। বন্ধুসম এক সহকর্মী এগিয়ে এসে কাঁধে তুলে নিলেন তাঁকে, ঘুরে বেড়ালেন গোটা ডিপো জুড়ে।
এই ঘটনায় যাত্রীরাও হতবাক। বাকি চালক ও কন্ডাক্টররাও আনন্দে আত্মহারা। খেলার মাঠে দেখা যায়, কোনও খেলোয়াড় অবসর নিলে তাঁকে কাঁধে তুলে সতীর্থরা মাঠ প্রদক্ষিণ করেন।
https://www.instagram.com/mr_toxic_1600/
বাস ডিপোতে সহকর্মীর অবসরের ঘটনাও অনেকটা সেইরকমই। এই ছোট্ট মুহূর্তটাই এত বছরের কর্মসঙ্গীর সঙ্গে দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতিফলন হয়ে দেখা দিল। এই দৃশ্যের ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে ভিডিওটি নিমেষে নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নেটিজেনরা এই ঘটনায় মুগ্ধ হয়ে গিয়েছেন। অনেকের মতে, এই ঘটনাটা জয়-ভিরুর বন্ধুত্বের মতো। বলিউডের বিখ্যাত সিনেমা শোলের দৃশ্যে অমিতাভ বচ্চন কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্রকে।
আর ব্যাকগ্রাউন্ডে সেই কালজয়ী গান, ‘ইয়ে দোস্তি হাম নাহি তোড়েঙ্গে’। ওই ভিডিও আসলে বুঝিয়ে দেয়, কর্মক্ষেত্রে খুঁজে পাওয়া বন্ধু কর্মজীবন শেষ হলেও সেই বন্ধুত্ব থেকে যায় আজীবন। কর্মজীবনে অবসর এলেও সহকর্মীর সঙ্গে হওয়া বন্ধুত্বে কোনও অবসর থাকে না।
















