আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ভারতে অনলাইন সংবাদ ও চলতি ঘটনাবলির কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তনের পথে কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্র একটি  খসড়া সংশোধনী প্রকাশ করেছে, যেখানে ডিজিটাল সংবাদ প্ল্যাটফর্ম ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য নতুন নিয়ম প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংশোধনী নিয়ে জনমত চাওয়া হয়েছে এবং ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মতামত জমা দেওয়ার সময়সীমা রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজনে বাড়ানোও হতে পারে।


এই প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা বাড়লেও তারা স্পষ্ট করেছেন, সরকার তার ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে না। তিনি বলেন, “সরকারবিরোধী কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়া হবে—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।” সরকার সংবিধান ও আইনের সীমার মধ্যেই কাজ করবে।


সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য চারটি বড় বিষয়ে কেন্দ্রীভূত—ডেটা ও তথ্য সংরক্ষণ, বিদ্যমান নির্দেশিকা মানা, গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষার স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং নিয়মের কাঠামোগত উন্নতি। 


খসড়া সংশোধনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল কিছু সংবাদ কনটেন্টের তদারকির দায়িত্ব আংশিকভাবে আই এন্ড বি-র হাতে তুলে দেওয়া। যদিও কনটেন্ট ব্লক করার চূড়ান্ত ক্ষমতা মিটির কাছেই থাকবে, তবুও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয়ও ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


আরও একটি বড় পরিবর্তন হল, এই নিয়মের আওতা শুধুমাত্র নিবন্ধিত সংবাদ প্রকাশকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। খসড়া অনুযায়ী, এর আওতায় এখন অনিবন্ধিত ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদেরও আনা হতে পারে। অর্থাৎ ইউটিউব চ্যানেল, স্বাধীন সাংবাদিক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক নিউজ প্ল্যাটফর্মগুলিও এই নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়তে পারে।


তবে এই প্রস্তাব নিয়ে শিল্প মহলে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্টেকহোল্ডাররা প্রশ্ন তুলেছেন—ইন্টারমিডিয়ারিদের (যেমন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম) ভূমিকা কীভাবে নির্ধারিত হবে, “news and current affairs” কনটেন্টের সঠিক সংজ্ঞা কী হবে এবং ব্যবহারকারীদের জন্য কী ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হবে।


এছাড়াও ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, নতুন নিয়মের ফলে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ কঠোর হলে বিজ্ঞাপনদাতাদের কৌশলও বদলাতে হতে পারে, যা পুরো ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

&t=546s
সব মিলিয়ে, আইটি রুলস ২০২১-র এই সংশোধনী প্রস্তাব ভারতের ডিজিটাল সংবাদ জগতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে কতটা ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে—স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে—সেদিকেই এখন নজর সবার।