আজকাল ওয়েবডেস্ক: সেই বিষ্ণুপুর। আবারও জ্বলছে মণিপুরের এই জেলা। কারণ? ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে মর্মান্তিক পরিণতি দুই নাবালকের। গুরুতর আহত তাদের মা। এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘিরে বিষ্ণুপুর-সহ পাশ্ববর্তী জেলাগুলিতেও তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহজনক রকেট হামলার জেরে আবারও দফায় দফায় বিক্ষোভ হচ্ছে মণিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায়। এর জেরে মঙ্গলবার থেকে মণিপুরের পাঁচ জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। কারফিউ জারি হয়েছে এক জেলায়। 

 

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী তিনদিন পূর্ব ইম্ফল, পশ্চিম ইম্ফল, বিষ্ণুপুর, কাকচিং, থৌবলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার দুপুর ২টো থেকেই ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি বিষ্ণুপুর জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। 

 

মৈরাংয়ে কী ঘটেছে? 

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল মধ্যরাতে দুষ্কৃতীরা মোইরাং ট্রোংলাওবিতে এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়ি লক্ষ্য করে রকেট হামলা করে। সেই বিস্ফোরণের জেরেই ওই জওয়ানের পাঁচ বছরের ছেলে এবং ছ'মাসের সদ্যোজাত মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। সকলেই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। এই হামলায় তাঁর স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। 

 

এই ঘটনার পরেই ট্রোংলাওবি এলাকা থেকে ২০০ মিটার দূরে স্থানীয় সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলা চালায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। কয়েকটি পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন জ্বালিয়ে দেন। মৈরাং থানার সামনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। গুলির শব্দও শোনা যায়। এই বিক্ষোভের জেরে আরও চারজন আহত হয়েছেন। 

 

এই ঘটনার পরেই মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী খেমাচন্দ সিং ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই মৃত দুই শিশুর আহত মায়ের সঙ্গে ইম্ফলের হাসপাতালে দেখা করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, "এটি বর্বোরচিত হামলা। মণিপুরের শান্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র। এই হামলার তীব্র নিন্দা করছি। যে বা যারা দোষী, তাদের খুঁজে বের করে কড়া শাস্তি দেওয়া হবে। কোনওভাবেই এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বরদাস্ত করব না।"