আজকাল ওয়েবডেস্ক: শর্টকাট নিতে গিয়েই ঘটল বিপত্তি। দুর্ঘটনার কবলে গাড়ি। ঘুরতে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই সব শেষ। পথেই মর্মান্তিক পরিণতি গোটা পরিবারের। যে ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই পরিবারটি ঘুরতে গিয়েছিল। তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছনোর জন্য শর্টকাট নিতে গিয়েই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। যাত্রী সহ গাড়িটি কুয়োয় পড়ে যায়। নিমেষের মধ্যে ওই পরিবারের ন'জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ছ'জন নাবালক।
পুলিশ জানিয়েছে, দিন্ডোরি এলাকায় এক কোচিং সেন্টারের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তাঁরা। গাড়িতে ছ'জন নাবালক ছিল। যাদের বয়স ৭ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। ওই অনুষ্ঠানের জায়গা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরেই তাদের বাড়ি। অনুষ্ঠান শেষেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন সকলে। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথেই শর্টকাট নেন ওই পরিবারের এক সদস্য। তাতেই ঘটে বিপত্তি।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রাস্তার ধারের এক কুয়োয় ধাক্কা দিয়েই উল্টে পড়ে। কুয়োয় ডুবেই পরিবারের সকল সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি দমকলে খবর পাঠান। প্রায় ৪০ ফুট পর্যন্ত জল রয়েছে ওই কুয়োয়। উদ্ধারকাজ শুরু করলেও, ততক্ষণে সব শেষ। গাড়ি থেকে সকলের মৃতদেহ কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়। এক নাবালকের দেহ গাড়ির বাইরে থেকে উদ্ধার হয়েছে।
গত অক্টোবরে এমন আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। মন্দির দর্শন সেরে আর বাড়ি ফেরা হয়নি। গভীর খাদে উল্টে পড়ে যাত্রীবাহী ট্রাক। দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া ট্রাকের ভিতরে আটকেই মৃত্যুমিছিল। এই দুর্ঘটনায় আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। আহত হয়েছিলেন আরও অনেকে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল মহারাষ্ট্রে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নন্দুরবার জেলায় যাত্রীবাহী একটি মিনি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে উল্টে পড়ে। দুর্ঘটনায় কমপক্ষে আটজনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন আরও ১৫ জন। অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তালোডা থানার অন্তর্গত চান্দসৈলি ঘাট এলাকায় শনিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। একটি তীর্থক্ষেত্র থেকে যাত্রীদের নিয়ে ফিরছিল মিনি ট্রাকটি। তাতে ৪০ জন পুণ্যার্থী ছিলেন। মাঝ রাস্তায় আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন ট্রাকের চালক। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি ২০০ ফুট গভীর খাদে গড়িয়ে পড়ে।
বিকট শব্দ শুনেই স্থানীয়রা ছুটে আসেন। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও উদ্শধারকারী দল। দুর্ঘটনায় অভিঘাতে বাসটি দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিল। ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল। ট্রাকের চালক সহ আহত ১৫ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ট্রাকের চালকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ। বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানো এবং তাঁর গাফিলতিতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তের পর জানিয়েছিল পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এখনও তদন্ত চলছে। অষ্টম্বা দেবী মন্দির দর্শন করে পুণ্যার্থীরা ফিরছিলেন। এটি বিশেষত আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। মহারাষ্ট্র ও গুজরাট থেকে বহু ভক্ত এখানে আসেন। এটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। তা জানা সত্ত্বেও বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানোর অভিযোগ উঠেছিল চালকের বিরুদ্ধে।















