আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে এক অমানবিক ও পৈশাচিক ঘটনার খবর প্রকাশ্যে এসেছে, যা শুনে শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ। একটি অবলা পথকুকুরকে যৌন হেনস্থা বা ‘বেস্টিয়ালিটি’-র অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লখনউয়ের গোমতীনগর এলাকায় গত ৭ আগস্ট এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে, যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম সনু বিশ্বকর্মা, যার বয়স মাত্র ২৪ বছর। ‘আসরা - দ্য হেলপিং হ্যান্ডস’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি চারু খারে এই বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সনু একটি পথকুকুরকে খাবারের লোভ দেখিয়ে নির্জনে ডেকে নিয়ে যায় এবং তারপর তার ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায়। ঘৃণ্য এই কাজটি যখন ঘটছিল, তখন সেখানে উপস্থিত কয়েকজন পথচারী তা দেখে ফেলেন। তাঁদের প্রতিবাদ ও হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত যুবকটি কুকুরটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

সবচেয়ে মর্মান্তিক এবং আশ্চর্যের বিষয় হল, যখন সনু এই ঘৃণ্য কাজ করছিল, তখন তার এক বন্ধু বাধা দেওয়ার বদলে পুরো ঘটনাটি নিজের মোবাইল ফোনে ক্যামেরাবন্দি করছিল। পরবর্তীকালে সেই ভিডিওটিই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়, যা দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড আক্রোশ তৈরি হয়। নেটিজেনরা অভিযুক্ত ও তার বন্ধুর কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলে গোমতীনগর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্ত সোনুকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনাটি প্রাণীদের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান নিষ্ঠুরতা এবং বিকৃত মানসিকতার এক অন্ধকার দিককে তুলে ধরেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ধরণের কাজ কেবল অমানবিকই নয়, বরং সমাজের জন্য এক বড় বিপদ। আপাতত পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং এই পাশবিক অত্যাচারে লিপ্ত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবলা প্রাণীদের সুরক্ষায় আইন যে আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন, লখনউয়ের এই ঘটনা আবারও সেই প্রশ্নটিই বড় করে সামনে নিয়ে এল।