আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহানগরীর ব্যস্ত রাস্তায় এবার দেখা যাবে চালকহীন ম্যাজিক ট্যাক্সি! নিত্যযাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ করতে এবং যানজটমুক্ত বাণিজ্য নগরী গড়ার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল মহারাষ্ট্র সরকার। মঙ্গলবার কুরলা ও বিকেসি (বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্স)-এর মধ্যে দেশের অন্যতম আধুনিক 'পড ট্যাক্সি' প্রকল্পের ভূমিপুজো বা শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। চেম্বুরের ডায়মন্ড গার্ডেন মেট্রো স্টেশনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং সুনেত্রা পওয়ার।

মুম্বাইয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বিকেসি-তে পৌঁছাতে গিয়ে প্রতিদিন লোকাল ট্রেন বা মেট্রো থেকে নামার পর শেষ মুহূর্তের যাতায়াত বা 'লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি' নিয়ে চরম নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। সেই ভোগান্তি দূর করতেই এমএমআরডিএ (MMRDA) এই 'অটোমেটেড র‍্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম' বা পড ট্যাক্সি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ছাড়পত্র ইতিমধ্যেই মিলেছে এবং আগামী ১০ মাসের মধ্যেই প্রথম দফার কাজ শেষ হয়ে যাবে।

কেমন হবে এই পড ট্যাক্সি?
এটি মূলত ব্যাটারিচালিত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। প্রতিটি পড ট্যাক্সিতে ছয়জন যাত্রী বসতে পারবেন। সর্বোচ্চ ৪০ কিমি গতিবেগের এই যানগুলো প্রতি ১৫ সেকেন্ড অন্তর স্টেশনে আসবে। এর বিশেষত্ব হল, যাত্রীরা যে স্টেশনটি নির্বাচন করবেন, পড ট্যাক্সিটি সরাসরি সেখানেই থামবে, যা যাতায়াতকে করবে অত্যন্ত দ্রুত ও দক্ষ।


পুরো প্রকল্পটি ৮.৮৫ কিমি দীর্ঘ হবে এবং এতে মোট ২২টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেশন থাকবে। প্রথম দফায় বান্দ্রা ও কুরলার মধ্যে ৩.৩৬ কিমি রাস্তা তৈরি করা হবে। এই ব্যবস্থাটি এলবিএস মার্গ এবং কালানগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে যুক্ত করবে। শুধু তাই নয়, মেট্রো লাইন ৩ এবং মেট্রো লাইন ২বি-র সঙ্গেও এর সংযোগ থাকবে, ফলে মেট্রো থেকে নেমেই যাত্রীরা সহজে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

সবচেয়ে বড় বিষয় হল, এই প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফলে রাজ্য সরকার বা এমএমআরডিএ-র ওপর কোনও আর্থিক বোঝা চাপবে না, উল্টে এটি কর্তৃপক্ষের জন্য রাজস্ব তৈরি করবে। ২০৩১ সালের মধ্যে প্রতিদিন ১.০৯ লক্ষ যাত্রী এই পরিষেবা ব্যবহার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, এই প্রকল্প সফল হলে শহরের অন্যান্য জায়গাতেও এটি চালু করার কথা ভাবা হবে। পাশাপাশি বিকেসি-র যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে একগুচ্ছ সুড়ঙ্গ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। একটি সুড়ঙ্গ বান্দ্রা-ওরলি সি লিঙ্ক থেকে শুরু হয়ে বুলেট ট্রেন স্টেশন পর্যন্ত যাবে, যার একটি অংশ বিমানবন্দরের সঙ্গেও যুক্ত হবে।

সব মিলিয়ে, মুম্বাইবাসীর যাতায়াতে এক বড়সড় বিপ্লব আনতে চলেছে এই পড ট্যাক্সি। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজে কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন অপেক্ষা শুধু কয়েক মাসের, যখন মুম্বাইয়ের রাস্তায় যানজট এড়িয়ে পড ট্যাক্সিতে চেপে অফিস পৌঁছাবেন কর্মব্যস্ত মানুষ।