আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহাকুম্ভের সেই পরিচিত মুখ, যাঁকে দুনিয়া চেনে ‘আইআইটি বাবা’ নামে, জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করলেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি হিমাচল প্রদেশের মনোরম পরিবেশে মহাশিবরাত্রির পুণ্য তিথিতে বেঙ্গালুরুর এক ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন অভয় সিং। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার প্রতীকার সঙ্গে তাঁর এই চার হাত এক হওয়ার খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে চর্চা শুরু হয়েছে।

খবর অনুযায়ী, প্রায় এক বছরের দীর্ঘ পরিচয় ছিল তাঁদের। বন্ধুত্ব দিয়ে শুরু হওয়া সেই সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসার গভীরতা পায়। বিয়ে সেরে দম্পতি যখন হরিয়ানার ঝাজ্জারে অভয়ের আদি বাড়িতে পৌঁছান, তখনই এই বিয়ের খবরটি জনসমক্ষে আসে। প্রতীকা তাঁর জীবনসঙ্গী সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানিয়েছেন, অভয় অত্যন্ত সহজ-সরল, সৎ এবং সত্যনিষ্ঠ একজন মানুষ। তাঁদের সম্পর্কটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে মজবুত হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা একসাথে বেশ সুখী।

হরিয়ানার ভূমিপুত্র অভয়ের জীবনকাহিনি কোনও  চলচ্চিত্রের গল্পের চেয়ে কম নয়। আইআইটি বোম্বে থেকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার মতো মেধাবী ছাত্র হয়েও তিনি বেছে নিয়েছিলেন এক ভিন্ন পথ। প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলায় যখন তিনি সাবলীল ইংরেজিতে আধ্যাত্মিকতার ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন, তখন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নজর কেড়েছিলেন এই তরুণ। সেই থেকেই তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে যায় ‘আইআইটি বাবা’ তকমা। বিজ্ঞানের জগৎ ছেড়ে কেন এই পথে এলেন, তার উত্তরে তিনি জানিয়েছিলেন যে নিজের ভেতরের টানেই এই আধ্যাত্মিক যাত্রা শুরু করেছেন। সন্ন্যাস বা আধ্যাত্মিক জীবনের আগে তিনি প্রায় চার বছর মুম্বইয়ে কাটিয়েছেন, যেখানে তিনি ফোটোগ্রাফি এবং চারুকলার চর্চাতেও মনোনিবেশ করেছিলেন।

বর্তমানে ভগবান শিবের একনিষ্ঠ ভক্ত অভয় প্রায়ই বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন নিয়ে কথা বলেন। তাঁর মতে, বিজ্ঞান আমাদের বাহ্যিক বা বস্তুগত জগতকে চিনতে সাহায্য করে, কিন্তু সেই জ্ঞানের গভীরে প্রবেশ করলে তা মানুষকে অবধারিতভাবে আধ্যাত্মিক চিন্তার দিকেই চালিত করে। জীবন ও বিজ্ঞানের এই অদ্ভুত দর্শন নিয়েই এবার গার্হস্থ্য জীবনে পা রাখলেন আধুনিক যুগের এই ‘আইআইটি বাবা’।