আজকাল ওয়েবডেস্ক: সময় যত এগিয়েছে মানুষ তত উন্নত হয়েছে। গুহা ছেড়ে পোশাক চাপিয়েছে গায়ে। নিজের বুদ্ধি দিয়ে আগুন জ্বালতে শিখেছে। এরপর ধীরে ধীরে জঙ্গল ছেড়ে বাড়ি বানিয়েছে, প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছে। দিনে দিনে নিজেকে পরিবর্তন করেছে। কিন্তু এখনও এমন কিছু মানুষ আছেন যাঁরা আজও সভ্যতার আলোয় আসেননি। এখনও মেনে চলেন প্রাচীন রীতিনীতিকেই। এরকমই এক আদিম গোষ্ঠীর নাম ভিল। 

 

 

ভিল উপজাতি ভারতের সবচেয়ে বৃহত্তম উপজাতিগুলির মধ্যে একটি। এরা মূলত বসবাস করে পশ্চিম ভারতের রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশের কিছু অংশে। সরকারি হিসেব বলছে, এই উপজাতি রাজস্থানের মোট জনসংখ্যার ৩৯ শতাংশ। ভিল শব্দটি মূলত বিল্লু বা বিলা শব্দটি থেকে এসেছে। যার অর্থ দাবিড় ভাষায় ধনুক। যা থেকে বোঝাই যাচ্ছে এরা মূলত বোন এবং পাহাড়ে বসবাস করতে ভালোবাসে এবং তীর ধনুকের সাহায্যে শিকার করে বেড়ান।   তবে শুধু তীর ধনুক নয় অস্ত্র বলতে তারা সাথে রাখেন তরোয়াল এবং কুড়ালও। এঁরা মহুয়া ফুল পচিয়ে তা থেকে মদ বানিয়ে নেশা করে থাকেন। এই উপজাতির মানুষেরা ভীষণ স্বাধীনচেতা হয়। তাদের নিজস্ব কিছু নিয়ম আর রীতিনীতি রয়েছে। পুরুষদের প্রধান পোশাক পাগড়ি ধুতি আর গামছা। অন্যদিকে মহিলারা শাড়ি আর ঘাগড়া পড়েন। সঙ্গে হাতে থাকে এক গাছা চুরি। পুরুষ, মহিলা নির্বিশেষে এই উপজাতির লোকেরা নানারকমের গয়না পরতে ভালবাসেন।

 

 

এই সমাজ নারী আর পুরুষের সমানাধিকারে বিশ্বাসী। বরং মেয়েদের এই সমাজে বেশি স্বাধীনতা। ভিল উপজাতির একটি নিজস্ব লোকনৃত্য আছে। যার নাম ঘূমর। এই নৃত্য নারীত্বের প্রতীক। যখন কোনও বাচ্চা বড় হয় তখন সে এই নাচের মাধ্যমে সমাজের উদ্দেশ্যে বার্তা দেয় যে সে ধীরে ধীরে মহিলা হয়ে উঠছে। মহিলাদের বিয়ের আগে হাতে উল্কি করতে হয়। মহিলারা হুঁকো টানেন এবং পুরুষদের সঙ্গে প্রকাশ্যে মদপান করেন। এই বিষয়টিকে সেই সমাজে ভাল চোখেই দেখা হয়। এই সমাজে বহুবিবাহ প্রথাও রয়েছে। মহিলারা একাধিক বিয়ে করতে পারেন। প্রথম স্বামী জীবিত থাকলেও একাধিক সঙ্গী রাখতে পারেন তিনি।