আজকাল ওয়েবডেস্ক: মণিপুরের দাঙ্গার সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও টাটকা। এবার লালসার শিকার সেই তরুণীর মৃত্যুতে নতুন করে শোকের ছায়া নেমে এল। ২০২৩ সালের মে মাসে যখন মেইতেই ও কুকি সংঘর্ষে জ্বলছে মণিপুর, ঠিক তখনই ইম্ফল থেকে অপহরণ করা হয়েছিল এই ২০ বছরের তরুণীকে। অকথ্য শারীরিক নির্যাতন আর গণধর্ষণের ক্ষত শরীর ও মনে এমনভাবে বসে গিয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত গত ১০ জানুয়ারি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনি।
পরিবারের আক্ষেপ, বিচার পাওয়ার আগেই মেয়েটি বিদায় নিল। দুই বছর আগের সেই বিভীষিকা থেকে তিনি কখনওই পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। গভীর মানসিক আঘাত এবং শারীরিক অসুস্থতাই শেষ পর্যন্ত কাল হল।
২০২৩ সালের জুলাই মাসে এক সাক্ষাৎকারে তরুণী জানিয়েছিলেন সেই হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা। চারজন যুবক একটি সাদা বোলেরো গাড়িতে তুলে তাঁকে নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যায়। তরুণীর বয়ান অনুযায়ী, চালক বাদে বাকি তিন জন তাঁকে ধর্ষণ করে। সারা রাত জলটুকুও দেওয়া হয়নি তাঁকে। পরের দিন সকালে শৌচাগারে যাওয়ার বাহানায় চোখের বাঁধন খুলে কোনওমতে পাহাড় থেকে নিচে পালিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচান তিনি। জানা গিয়েছে, এক অটোচালকের সাহায্যে সবজির নিচে লুকিয়ে তিনি নিরাপদ জায়গায় পৌঁছান।
মৃতার মা জানিয়েছেন, আগে তাঁর মেয়ে অত্যন্ত হাসিখুশি এবং প্রাণোচ্ছ্বল ছিল। এমনকী ইম্ফলের একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন তরুণী। কিন্তু সেই কালরাত্রির পর তাঁর হাসি চিরতরে হারিয়ে গিয়েছিল। নির্যাতনের জেরে তাঁর জরায়ুতে মারাত্মক সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। গুয়াহাটিতে চিকিৎসাও করানো হয়, কিন্তু শরীরের সেই ক্ষত আর সেরে ওঠেনি কখনও।
কুকি সংগঠনগুলির দাবি, ‘আরামবাই টেঙ্গল’ গোষ্ঠীর সদস্যরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। মণিপুরে চলা এই জাতিগত দাঙ্গায় এ পর্যন্ত ২৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, ঘর হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বিচার না পেয়েই তরুণীর এহেন চলে যাওয়ায় রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
