আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরলে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছে রাজ্য সরকারের একটি বিজ্ঞাপন প্রচারকে ঘিরে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রধান সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় প্রকাশিত এই বিজ্ঞাপনে Left Democratic Front সরকারের আমলে রাজ্যের উন্নয়নের দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকারের Information and Public Relations Department Kerala। এতে ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত United Democratic Front সরকারের সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের তুলনা করা হয়েছে। বর্তমানে কেরলের সরকার পরিচালনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।
বিজ্ঞাপনের প্রথম পাতায় আগের ইউডিএফ সরকারের সময়কার বিভিন্ন সমস্যার সংবাদপত্রের শিরোনাম তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বিদ্যুৎ সংকট, Kerala State Road Transport Corporation–এর আর্থিক সঙ্কট, কল্যাণমূলক পেনশন প্রদানে বিলম্ব এবং জাতীয় সড়ক প্রকল্পের কাজে বাধার মতো বিষয়গুলি উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনের ভেতরের পাতায় বর্তমান এলডিএফ সরকারের আমলে এই পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজ্যে বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকট দেখা যায়নি, কল্যাণ পেনশন বকেয়া ছাড়াই দেওয়া হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক প্রকল্পগুলির কাজ প্রায় শেষের পথে এবং কেএসআরটিসির আর্থিক অবস্থাও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।
&t=21sতবে এই প্রচারকে ঘিরে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা ভিডি সাথীসন অভিযোগ করেছেন, সরকার জনসংযোগ দপ্তরকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছে। তাঁর কথায়, সরকারি অর্থ ব্যবহার করে আগের সরকারকে ছোট করা অনৈতিক এবং এই বিষয়টি রাজনৈতিক ও আইনি দুই ক্ষেত্রেই তোলা হবে।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং লোকসভা সাংসদ কেসি ভেনুগোপাল দাবি করেছেন, করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এই বিজ্ঞাপন প্রচার পরোক্ষভাবে প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উম্মেন চান্দিকেও লক্ষ্য করে করা হয়েছে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপে জনসাধারণের অর্থ অপচয় করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তর এমনভাবে কাজ করছে যেন সেটি সিপিএম-এর পার্টি অফিস থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।
কেরলে আগামী বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে। শাসক এলডিএফ এবং বিরোধী ইউডিএফ—দুই পক্ষই উন্নয়ন ও প্রশাসন নিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করছে। এই বিজ্ঞাপন বিতর্ক সেই রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
