আজকাল ওয়েবডেস্ক: মোবাইলের নেশা বিপজ্জনক। পড়ুয়াদের মোবাইল ও ইন্টারনেটের নেশা কাটাতে এবার কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে কর্নাটক সরকার। অত্যাধিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে স্কুলপড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা রুখতেই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর এবং ‘নিমহ্যান্স’ যৌথভাবে একটি নতুন নির্দেশিকা তৈরি করেছে।

সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রতি চারজন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে একজন ইন্টারনেটের নেশায় আসক্ত। এর ফলে অল্প বয়সেই অনিদ্রা, অবসাদ এবং পড়াশোনায় মন না বসার মতো সমস্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে সাইবার বুলিং বা অনলাইনে প্রতারণার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন।

নতুন এই নীতিতে কী কী বলা হয়েছে?

এখন থেকে পড়াশোনার সঙ্গেই শেখানো হবে কীভাবে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। স্কুলগুলিকে নিজস্ব নিয়ম তৈরি করতে হবে। সেখানে দিনে এক ঘণ্টার বেশি ‘স্ক্রিন-টাইম’ বা মোবাইল ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পড়ুয়ারা ডিজিটাল নেশায় ডুবছে কি না, তা বুঝতে শিক্ষকদের বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হবে। নেশা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছলে অভিজ্ঞ কাউন্সিলরের সাহায্য নেওয়ার পথও খোলা রাখা হচ্ছে। প্রতিটি স্কুলে নজরদারির জন্য একটি করে ‘ডিজিটাল ওয়েলনেস কমিটি’ গড়া হবে।

 ইন্টারনেটের 'মোহ' কাটিয়ে পড়ুয়াদের মাঠে ফেরাতে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দেবে স্কুল। এমনকী স্কুলে থাকবে ‘টেক-ফ্রি’ বা প্রযুক্তিহীন সময়। নেশা ছাড়াতে শিক্ষকদের ‘৫-সি’ ফর্মুলা শেখানো হবে।

ডিজিটাল আসক্তি বা মানসিক উদ্বেগের জন্য সরকারি হেল্পলাইন ‘টেলি-মানস’ (১৪৪১৬)-এর সাহায্য নেওয়া যাবে।

শুধু স্কুল নয়, বাড়িকেও স্মার্টফোনের নেশা থেকে মুক্ত রাখতে হবে। অভিভাবকদের বলা হয়েছে, বাড়িতে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় বা নির্দিষ্ট সময়ে ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখতে। বলা হয়েছে, সন্তানদের সামনে নিজেদেরও সংযত হতে।

সরকারের আশা, স্কুল ও অভিভাবকরা হাত মেলালে পড়ুয়াদের এই ডিজিটাল আসক্তি কমানো সম্ভব হবে। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের পড়াশোনার উন্নতি হবে, তেমনই সুরক্ষিত থাকবে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য।