আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইসরোর পিএসএলভি মিশনের ব্যর্থতার মধ্যেই বড় চমক দিল স্পেনের মহাকাশ স্টার্টআপ অরবিটাল প্যারাডাইম।
সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের ‘কেস্ট্রেল ইনিশিয়াল ডেমনস্ট্রেটর’ (KID) ক্যাপসুলটি আশ্চর্যজনকভাবে এই ঘটনার পরও পুরোপুরি অক্ষত রয়েছে। সংস্থার দাবি, উৎক্ষেপণের সময় স্যাটেলাইট আলাদা হওয়ার ধাপ, বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের চরম পরিস্থিতি এবং পৃথিবীতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠানোর মতো একাধিক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এই ক্যাপসুল।
ফুটবলের আকারের ২৫ কেজি ওজনের এই প্রোটোটাইপটি ১২ জানুয়ারি ইসোর পিএসএলভি রকেটে সহযাত্রী হিসেবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। তৃতীয় ধাপে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মূল পে-লোডগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
কিন্তু সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রকেটের চতুর্থ ধাপ থেকে সফলভাবে আলাদা হতে পেরেছে KID ক্যাপসুল। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স হ্যান্ডেলে অরবিটাল প্যারাডাইম জানায়, ‘আমাদের KID ক্যাপসুল পিএসএলভি-সি৬২ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, চালু হয়েছে এবং তিন মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তথ্য পাঠিয়েছে। আমরা এখন এর গতিপথ বিশ্লেষণ করছি। অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার তথ্যও পাওয়া গেছে। শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।’
তবে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে স্প্ল্যাশডাউনের উদ্দেশ্যে পৃথিবীতে রি-এন্ট্রি পরীক্ষার জন্য তৈরি এই ক্যাপসুলটি এমন তাপ ও চাপ সহ্য করেছে যা সাধারণত পরীক্ষামূলক হার্ডওয়্যার ধ্বংস করে দেয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের ইসরোর প্রথম উৎক্ষেপণ ছিল পিএসএলভি-সি৬২। সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সকাল ১০.১৭ মিনিটে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
এতে ছিল ইওএস-এন১ (অন্বেষা) নামের ডিআরডিও-র একটি কৌশলগত ইমেজিং স্যাটেলাইট, সঙ্গে আরও ১৫টি সহযাত্রী পে-লোড। যার মধ্যে আয়ুলস্যাট (অন-অরবিট রিফুয়েলিং), মরিশাস, নেপালসহ একাধিক দেশের আন্তর্জাতিক পেলোড ছিল।
তবে তৃতীয় ধাপের (PS3) শেষ পর্যায়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় কক্ষপথে স্যাটেলাইট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ১৬টি স্যাটেলাইটই হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ইসরোর চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন জানান, তৃতীয় ধাপে ‘বিচ্যুতি’ ধরা পড়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মিশন ব্যর্থতা ঘোষণা করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে KID ক্যাপসুলের টিকে থাকা বেসরকারি মহাকাশ উদ্যোগের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফরাসি সংস্থা রাইড-এর সহযোগিতায় তৈরি এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে রি-এন্ট্রি সিস্টেম, স্যাটেলাইট সার্ভিসিং ও ডি-অরবিটিংয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ইসরোর পিএসএলভি রকেটের ৬৪তম অভিযানে বিরল এই ব্যর্থতার মাঝেই KID-এর সাফল্য ভারতীয় রাইডশেয়ার উৎক্ষেপণের উপর আন্তর্জাতিক নির্ভরতা এবং ছোট স্যাটেলাইট নির্মাতাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন করে তুলে ধরেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রি-এন্ট্রির সময় সংগৃহীত টেলিমেট্রি ডেটা ভবিষ্যতের গবেষণায় অমূল্য হয়ে উঠতে পারে। অরবিটাল প্যারাডাইম শীঘ্রই বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করবে।
এই রিপোর্ট কেস্ট্রেল প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, গগনযান ও চন্দ্রযান-৪ মিশনের আগে পিএস৩ ধাপের ত্রুটি খতিয়ে দেখাই এখন ইসরোর প্রধান লক্ষ্য।
