ভারতীয় শেয়ারবাজারে অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেনসেক্স তার সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ৯% নীচে নেমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ স্পষ্ট।
2
9
বাজারে মুনাফা বুকিং, বিশ্বের অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং সুদের হার সংক্রান্ত দোলাচল— সব মিলিয়ে সূচক চাপে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এখন কি সোনায় বিনিয়োগ বাড়ানোর সঠিক সময়?
3
9
প্রথমেই বুঝতে হবে, শেয়ারবাজারে ৮–১০% সংশোধন খুব অস্বাভাবিক নয়। দীর্ঘমেয়াদে বাজার উপরের দিকেই গিয়েছে, কিন্তু মাঝেমধ্যে এই ধরনের পতন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। অনেক সময় অতিরিক্ত মূল্যায়ন কমাতে এবং ভবিষ্যতের বৃদ্ধির জন্য শক্ত ভিত তৈরি করতেই বাজার এমন সংশোধনের মধ্যে দিয়ে যায়।
4
9
তবে বিনিয়োগকারীর মনস্তত্ত্ব এখানে বড় ভূমিকা নেয়। বাজার পড়লেই আতঙ্ক তৈরি হয়, আর তখনই সোনা ‘সেফ হেভেন’ হিসেবে সামনে আসে। ইতিহাস বলছে, বিশ্বের অস্থিরতা, যুদ্ধের আশঙ্কা বা অর্থনৈতিক মন্দার সময় সোনার চাহিদা বাড়ে। কারণ সোনা সরাসরি কোনও কোম্পানির লাভ বা লোকসানের উপর নির্ভর করে না। এটি একটি মূল্য সংরক্ষণকারী সম্পদ হিসেবে পরিচিত।
5
9
আর্থিক বিশেষজ্ঞরা সাধারণত পরামর্শ দেন, সম্পদের সঠিক বণ্টন বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার পোর্টফোলিওতে ইতিমধ্যেই ১০–১৫% সোনা থাকে, তবে শুধুমাত্র বাজার পতনের কারণে তা হঠাৎ ৩০–৪০% করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নাও হতে পারে। কারণ বাজার ঘুরে দাঁড়ালে আপনি শেয়ারের পুনরুদ্ধারের সুযোগ হারাতে পারেন।
6
9
অন্যদিকে, যদি আপনার পোর্টফোলিও সম্পূর্ণরূপে ইক্যুইটি নির্ভর হয় এবং সোনার কোনও অংশ না থাকে, তাহলে এই সংশোধনের সময় ধীরে ধীরে কিছুটা সোনা যোগ করা কৌশলগত হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা মধ্যম বা স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে বিনিয়োগ করছেন, তাঁদের জন্য সোনা অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
7
9
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিনিয়োগের সময়সীমা। যদি আপনার লক্ষ্য ৫–১০ বছর বা তার বেশি দীর্ঘমেয়াদি হয়, তাহলে বাজারের এই পতনকে সুযোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। ভাল মানের শেয়ার বা ইক্যুইটি ফান্ডে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভজনক হতে পারে।
8
9
সোনায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বিকল্প রয়েছে— ফিজিক্যাল গোল্ড, গোল্ড ETF, বা সার্বভৌম গোল্ড বন্ড। প্রত্যেকটির ঝুঁকি ও রিটার্নের ধরন আলাদা। তাই শুধুমাত্র আবেগ নয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
9
9
সবশেষে বলা যায়, সেনসেক্স ৯% নীচে নামা মানেই বাজার ভেঙে পড়েছে— এমন নয়। এটি একটি স্বাস্থ্যকর সংশোধনও হতে পারে। সোনায় কিছু বরাদ্দ রাখা অবশ্যই বুদ্ধিমানের, কিন্তু আতঙ্কে হঠাৎ বড়সড় পরিবর্তন করা উচিত নয়। সঠিক সম্পদ বণ্টন, ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিই এই অস্থির বাজারে সাফল্যের চাবিকাঠি।