আজকাল ওয়েবডেস্ক: একগুচ্ছ পদক্ষেপের পরেও বিষাক্ত পানীয় জলের দুর্ভোগ কমছেই না! বিজেপি শাসিত রাজ্যে বিষাক্ত পানীয় জল খেয়ে মৃত্যুমিছিল বেড়েই চলেছে। চলতি বছরে জানুয়ারি মাসের শেষভাগে বিষাক্ত পানীয় জল খেয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৮।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ভাগীরথপুরায় এখনও পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার ৭৫ বছর বয়সি এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রাজারাম বৌরাসির মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। রাজারাম কংগ্রেসের ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট ছিলেন। শুক্রবার থেকে ডায়রিয়া ও ঘনঘন বমির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। রবিবার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
যদিও জেলা প্রশাসনের দাবি, রাজারাম বয়সজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ছিল তাঁর। প্রতিটা মৃত্যুর পরেই আসল কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদৌ বিষাক্ত পানীয় জল খেয়েই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে কিনা, তা ঘিরে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে এখনও ১০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চারজন ভর্তি রয়েছেন আইসিইউতে। তাঁদের মধ্যে দু'জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভাগীরথপুরার বাইরের একাধিক শহরেও বিষাক্ত পানীয় জলের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেকের অসুস্থতার খবর পাওয়া গেছে। পট্টি বাজারেও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে এই সমস্যা ঘিরে। এমহাউয়ে ৩০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার মধ্যে ২৪ জন শিশু।
গত বছরের শেষ থেকেই ইন্দোরে বিষাক্ত পানীয় জল খেয়েই মৃত্যুমিছিল শুরু হয়। জানুয়ারির শুরুতেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন ছিলেন ২০০ জন। ঘনঘন বমি, পেট ব্যথা, পেট খারাপের মতো উপসর্গ ছিল সকলের। বিষাক্ত পানীয় জল খাওয়ার পরেই বিপত্তি বাড়ে। অসুস্থ হয়ে পড়েন ন'হাজারের বেশি বাসিন্দা।
এরপর গুজরাটের গান্ধীনগরেও বিষাক্ত জলের অভিযোগ উঠেছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারির শুরুতে গান্ধীনগরের শতাধিক বাসিন্দা টাইফয়েডে আক্রান্ত হন। গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে ১০৪ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের তালিকায় শিশুরাও ছিল।
গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সংঘভি ইতিমধ্যেই গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জানান, ২২ জন বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তারদের নিয়ে একটি টিম তৈরি করে, রোগীদের দেখভাল করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এই টিম।
