আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের মাছ উৎপাদন বেড়ে ১৯৭.৭৫ লক্ষ টনে দাঁড়িয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে মাছের উৎপাদন ৯৫.৭৯ লক্ষ টন ছিল। অর্থাৎ গত ১০ বছরে বৃদ্ধির হার ১০৬ শতাংশ। গড় জলজ উৎপাদনশীলতা প্রতি হেক্টরে ৪.৭৭ টনে পোঁছেছে।  এই পরিসংখ্যান উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ এবং কৃষি পদ্ধতির প্রতিফলন।

ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশ। বিশ্বব্যাপী মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতের অবদান প্রায় প্রায় ৮ শতাংশ এবং চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানিতে শীর্ষস্থানীয়। পিআইবি'র মতে, ২০২৩-২৪ সালে সামুদ্রিক খাবার রপ্তানি ১৬.৯৮ লক্ষ টনে পৌঁছেছে, যার মূল্য ৬২,৪০৮ কোটি টাকা।

সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে বড় উদ্যোগ:
২০১৪-১৫ সাল থেকে, ভারত সরকার PMMSY, PMMKSSY, FIDF এবং নীল বিপ্লবের মতো প্রকল্পের অধীনে ৩২,৭২৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার মোট বিনিয়োগ ৩৮,৫৭২ কোটি টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলি উৎপাদন, পরিকাঠামো, মূল্য সংযোজন এবং মৎস্যজীবী কল্যাণের উপর নজর দেয়।

৭৪.৬৬ লক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে:
পিআইবি রিপোর্ট অনুসারে, ২০১৪-১৫ সাল থেকে বিভিন্ন মৎস্য প্রকল্পের অধীনে ৭৪.৬৬ লক্ষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। মূল্যশৃঙ্খলে সবমিলিয়ে তিন কোটি মৎস্যজীবী এবং মৎস্য চাষী জীবিকা নির্বাহ করে।

শক্তিশালী কল্যাণ এবং আর্থিক সহায়তা:
সরকার মৎস্যজীবীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা এবং ঋণের সুবিধা বাড়িছে। ৩৪.৭১ লক্ষ মৎস্যজীবীকে গোষ্ঠী দুর্ঘটনা বিমার আওতায় আনা হয়েছে, ৩,৫৬৯.৬০ কোটি টাকা মূল্যের ৪.৪৯ লক্ষ কিষাণ ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং ৪.৩৩ লক্ষ মৎস্যজীবী পরিবার স্বল্প মাছ ধরার সময় পুষ্টি সহায়তা পায়।

পরিকাঠামো, ক্লাস্টার এবং নীল অর্থনীতির উপর ফোকাস:
মৎস্য বন্দর, কোল্ড চেইন, অ্যাকোয়াপার্ক, সামুদ্রিক শৈবাল চাষ এবং গভীর সমুদ্রে মাছ ধরায় বড় বিনিয়োগ ভারতের নীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। নতুন ক্লাস্টার-ভিত্তিক উন্নয়ন এবং EEZ নিয়মগুলি আগামী বছরগুলিতে রপ্তানি, স্থায়িত্ব এবং আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করবে।