আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানে ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ ও অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারত সরকার সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিল।

তার কয়েক দিনের মধ্যেই শুক্রবার গভীর রাতে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফিরলেন একাধিক ভারতীয় নাগরিক। বিমানবন্দরে ধরা পড়ল উৎকণ্ঠা এবং স্বস্তির ছবি।

ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন ভারতীয় নাগরিকরা। বিদেশ মন্ত্রক ও তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের জারি করা পরামর্শ অনুযায়ী ছাত্রছাত্রী, তীর্থযাত্রী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকসহ ভারতীয় নাগরিকদের জরুরি পরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সরকার জানায়, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং সেখানে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবরকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

দেশে ফিরে আসা ভারতীয় নাগরিকরা ইরানে ক্রমশ খারাপ হয়ে ওঠা পরিস্থিতির কথা জানান। তাঁদের কথায়, বিক্ষোভ, একাধিক বিধিনিষেধ এবং ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছিল।

দিল্লিতে নেমে এক ভারতীয় নাগরিক বলেন, ‘ওখানে পরিস্থিতি খুবই খারাপ। ভারত সরকার আমাদের সহযোগিতা করেছে। দূতাবাস শুরু থেকেই দ্রুত ইরান ছাড়ার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে।’

আর এক ব্যক্তি জানান, 'গত এক-দু’সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। ‘আমরা এক মাস সেখানে ছিলাম। শেষের দিকে বাইরে বেরোলেই বিক্ষোভকারীরা গাড়ির সামনে এসে ঝামেলা করত। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। এমনকি দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।’

ইরান থেকে ফেরা জম্মু ও কাশ্মীরের এক বাসিন্দা বলেন, ‘ওখানকার বিক্ষোভ অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল। ভারত সরকার জরুরি উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীদের ফিরিয়ে এনেছে।’

এদিকে, বিমানবন্দরের বাইরে বহু পরিবার দিন কয়েক ধরে প্রিয়জনের কোনও খোঁজ না পেয়ে উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছিলেন। ইরানে তীর্থযাত্রায় যাওয়া স্ত্রীর পিসির অপেক্ষায় থাকা এক ব্যক্তি বলেন, ‘ইরান ভারতের পুরনো বন্ধু দেশ। আমরা সরকারের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেছিলাম। সরকার সহযোগিতা করেছে। পরিবারের সদস্য নিরাপদে ফিরছেন বলে আমরা খুব খুশি।’

আর এক ব্যক্তি ইরানের পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধের মতো’ বলে বর্ণনা করেন। বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় কোনও যোগাযোগ ছিল না। আমরা ভীষণ চিন্তায় ছিলাম। কঠিন সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ।’

প্রসঙ্গত, তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস তাদের নির্দেশিকায় ইরানের ‘পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি’-র কথা উল্লেখ করে ভারতীয় নাগরিকদের বাণিজ্যিক উড়ান বা যে কোনও পরিবহণের মাধ্যমে ইরান ছাড়ার অনুরোধ জানায়।

পাশাপাশি বিদেশ মন্ত্রক নতুন করে ভারতীয়দের ইরান সফর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি জারি করা নির্দেশিকাতেও ইরানে থাকা ভারতীয়দের সতর্ক থাকতে এবং বিক্ষোভ ও জমায়েত এড়িয়ে চলার কথা জানানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ঐতিহাসিক পতনের পর বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

জলসঙ্কট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি এই অর্থনৈতিক সঙ্কটকে আরও গভীর করে তুলেছে। আগামী দিনগুলিতে আরও ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, তেহরানের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিয়মিত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।