আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তি খাতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে স্টার্টআপ গ্যালাক্স আইয়ের তৈরি করা ‘দৃষ্টি’ স্যাটেলাইট। সংস্থার সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা এই মিশনকে “প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রথম” বলে বর্ণনা করেছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন কেন ভারতের স্যাটেলাইট ডিজাইনে নতুনভাবে ভাবা জরুরি হয়ে উঠেছে।


‘দৃষ্টি’ স্যাটেলাইটের মূল বৈশিষ্ট্য হল—এটি আবহাওয়া বা আলোর সীমাবদ্ধতা ছাড়াই পৃথিবীর ওপর পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। অর্থাৎ, মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি বা রাত—কোনও কিছুই এর নজরদারিকে থামাতে পারবে না। এই ক্ষমতা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে সীমান্ত পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে।


বর্তমানে প্রচলিত অনেক স্যাটেলাইট অপটিক্যাল ইমেজিংয়ের উপর নির্ভরশীল, যা খারাপ আবহাওয়া বা অন্ধকারে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। কিন্তু ‘দৃষ্টি’ স্যাটেলাইটে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তি—যার মধ্যে রাডার ও হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিংয়ের সমন্বয় রয়েছে—এই সীমাবদ্ধতাকে দূর করবে। ফলে এটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই নজরদারি চালাতে পারবে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্ষমতা ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। সীমান্তবর্তী এলাকা, বিশেষ করে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলিতে নজরদারি আরও নিখুঁত ও নিরবচ্ছিন্ন হবে। ফলে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ, সেনা মোতায়েন বা কাঠামোগত পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।


এই উদ্যোগটি ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্যও একটি বড় মাইলফলক। এতদিন মহাকাশ প্রযুক্তি মূলত সরকারি সংস্থা যেমন ইসরো-র হাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন বেসরকারি সংস্থাগুলিও এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে শুরু করেছে।


এছাড়া, ‘দৃষ্টি’ স্যাটেলাইটের ব্যবহার শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং নগর পরিকল্পনার মতো ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে উদ্ধার কাজে সাহায্য করা সম্ভব হবে।

 

&t=125s
সব মিলিয়ে, ‘দৃষ্টি’ স্যাটেলাইট ভারতের প্রযুক্তিগত ক্ষমতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছে। এটি শুধু দেশের নিরাপত্তা জোরদার করবে না, বরং বিশ্বের মহাকাশ প্রযুক্তির মানচিত্রেও ভারতের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে। পাকিস্তান ও চীনের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির জন্য এটি নিঃসন্দেহে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।