আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাজেটে বড়সড় আর্থিক বরাদ্দের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা চলছে, যাতে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচি, সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় সম্পূর্ণ করা যায়। প্রতিবেশী পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এমন পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে নয়া দিল্লি। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয়কে মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) প্রায় ২.৫ শতাংশে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যও এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


ভারত এক কঠিন রাজনৈতিক অঞ্চলে অবস্থান করছি। তাই সাধারণত যে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়, এবার তার চেয়ে বেশি, সম্ভবত ২০ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি করা হবে। আগামী কয়েক বছর অন্তত ২০ শতাংশ বৃদ্ধিই বজায় রাখা হবে। তবেই ভারতের ক্ষমতা বৃদ্ধি পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
বর্তমানে সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে ভারত বিশ্বের চতুর্থ স্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়ার পরেই এই অবস্থান। ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিরক্ষায় বরাদ্দ করা হয়েছে ৮২ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারিত হয়েছে সামরিক আধুনিকীকরণের জন্য। ২০১৪-২৫ অর্থবর্ষে বরাদ্দ ৭০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এই বৃদ্ধি প্রায় ৯ শতাংশ।


আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও স্থলবাহিনীর নতুন প্ল্যাটফর্ম এবং প্রযুক্তি আপগ্রেডের পরিকল্পনা। বিশেষত চীন সীমান্তে পরিকাঠামো উন্নয়ন, সমুদ্র নিরাপত্তা, সাইবার প্রতিরক্ষা এবং আকাশসীমা নজরদারিতে আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরির প্রতি জোর দেওয়া হচ্ছে।


এরই মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য এমএইচ-৬০আর (MH-60R) মাল্টিরোল হেলিকপ্টারের পাঁচ বছরের ‘সাসটেইনমেন্ট সাপোর্ট প্যাকেজ’–এর জন্য মার্কিন সরকারের সঙ্গে লেটার অফ অফার অ্যান্ড অ্যাকসেপ্টেন্স (LOA) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ৮৯৪ মিলিয়ন ডলার।


এই ‘সাসটেইনমেন্ট প্যাকেজ’-এ রয়েছে—স্পেয়ার পার্টস, সহায়ক যন্ত্রপাতি, প্রোডাক্ট সাপোর্ট, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, বিভিন্ন উপাদানের মেরামত ও পুনঃব্যবস্থাপন, এবং ভারতে ‘ইন্টারমিডিয়েট লেভেল’ কম্পোনেন্ট রিপেয়ার ও পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা স্থাপন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সাসটেইনমেন্ট সাপোর্ট একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ—যার মধ্যে রয়েছে স্পেয়ার, সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, উপাদানের মেরামত ও পুনঃপূরণ, এবং ভারতে মধ্য-স্তরের রিপেয়ার ও মেইনটেন্যান্স সুবিধা গড়ে তোলা।”


এমএইচ-৬০আর হেলিকপ্টারকে ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘গেম চেঞ্জার’ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ধরা হয়—অ্যান্টি-সাবমেরিন ও অ্যান্টি-সারফেস ওয়ারফেয়ারে এটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য। ফলে রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি নৌবাহিনীর অপারেশনাল রেডিনেস আরও বাড়িয়ে তুলবে।


মোটের ওপর, আসন্ন প্রতিরক্ষা বাজেট এবং আধুনিকীকরণ চুক্তিগুলি পরিষ্কারভাবেই নির্দেশ করছে যে, ভারতের নিরাপত্তা পরিবেশ যেমন জটিল হচ্ছে, তেমনই সামরিক প্রস্তুতি ও ক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে সরকারের জোরও দ্রুত বাড়ছে। ভবিষ্যৎ কয়েক বছরের জন্য কৌশলগত বিনিয়োগই ভারতের প্রতিরক্ষা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।