আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরীক্ষা করে জানা গিয়েছিল পাত্র এইডস আক্রান্ত। তিনি এইচআইভি পজিটিভ জানতেই, তড়িঘড়ি বিয়ে বাতিলের ঘোষণা করে পাত্রীর পরিবার। সেই বিয়ে বাতিলকে কেন্দ্র করেই বড়সড় অঘটন ঘটল। পাত্রীকে এইচআইভি-র ইঞ্জেকশন দিয়ে প্রতিশোধ নিলেন পাত্র। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদে। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ১১ মার্চ। ২২ বছরের পাত্রীকে এইচআইভি-র ইঞ্জেকশন দেন ২৪ বছরের পাত্র। বিয়ে বাতিল হতেই এহেন পদক্ষেপ করেছেন তিনি। বর্তমানে ওই পাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রেখেছেন চিকিৎসকরা। 

 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, পাত্র ও পাত্রী সম্পর্কে দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পরেই বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে পাত্রের শারীরিক পরীক্ষা করায় পাত্রীর পরিবার। সেই পরীক্ষায় জানা যায়, পাত্র এইডস আক্রান্ত। এইচআইভি পজিটিভ জানতেই বিয়ে বাতিল ঘোষণা করে পরিবার। 

 

কিন্তু পাত্র নাছোড়বান্দা ছিলেন, এই তরুণীর সঙ্গেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন। বিয়ে বাতিল হতেই প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ইতিমধ্যেই খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে অভিযুক্ত তরুণের বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি পলাতক। তাঁর খোঁজে পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। 

 

গত মাসেই এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল।‌ অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় এক মহিলা-সহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, প্রাক্তন প্রেমিকের স্ত্রী—পেশায় এক চিকিৎসক-কে পরিকল্পিতভাবে এইচআইভি-সংক্রমিত রক্ত ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ৩৪ বছরের বি বয়া বাসুন্ধরা, আদোনির একটি বেসরকারি হাসপাতালের নার্স কোঙ্গে জ্যোতি (৪০) এবং তাঁর দুই সন্তান (দু’জনেই কুড়ির কোঠায়)। তাঁদের ২৪ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, বাসুন্ধরা তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকের বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। সেই আক্রোশ থেকেই তিনি প্রেমিকের স্ত্রীকে দাম্পত্য জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

 

অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এইচআইভি-আক্রান্ত রোগীদের রক্তের নমুনা ‘গবেষণার কাজ’ দেখিয়ে সংগ্রহ করা হয়। পরে সেই সংক্রমিত রক্ত ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। ঘটনাটি ঘটে ৯ জানুয়ারি দুপুর প্রায় আড়াইটে নাগাদ। আক্রান্ত চিকিৎসক—যিনি কুর্নুলের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক—দুপুরের খাবারের জন্য স্কুটারে করে বাড়ি ফিরছিলেন।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ভিনায়ক ঘাটের কাছে কেসি ক্যানাল সংলগ্ন এলাকায় দু’জন বাইক আরোহী ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর স্কুটিকে ধাক্কা মারে। পড়ে গিয়ে তিনি আহত হন। এই সময় বাসুন্ধরা ও অন্য অভিযুক্তরা ‘সাহায্য’ করার ভান করে এগিয়ে আসে। তাঁকে অটোরিকশায় তোলার চেষ্টা করার সময়ই বাসুন্ধরা নাকি ইনজেকশনের মাধ্যমে এইচআইভি-সংক্রমিত রক্ত প্রবেশ করান। ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

 

পরদিন, ১০ জানুয়ারি, আক্রান্তের স্বামী—তিনিও পেশায় চিকিৎসক—কুর্নুল ৩ টাউন পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার-র ১২৬(২), ১১৮(১), ২৭২ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং সংক্রমিত রক্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের বিষয়ে আরও তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইচ্ছাকৃতভাবে এইচআইভি সংক্রমণের চেষ্টা করা শুধু অনৈতিকই নয়, এটি একটি মারাত্মক দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন ঘটনা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তোলে। এই ঘটনায় ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা কতটা বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত তথ্য আদালতে প্রমাণ সাপেক্ষ—তবে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।