আজকাল ওযেবডেস্ক: তেলেঙ্গানার মঞ্চেরিয়াল জেলায় ভয়াবহ কাণ্ড। অভিযোগ, প্রায় ১০০টি পথ কুকুরকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। কুকুরগুলোর মৃতদেহ একটি নদীর কাছে মাটির নীচে পুঁতে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু, বিষয়টি জানতে পেরেই সন্দেহ দানা বাঁধে। স্থানীয়দের কতায়, কুকুরগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় উদ্বেগে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পশু কল্যাণ সংগঠনগুলো।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুসারে, পশু কল্যাণ কর্মী এ. গৌতম পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গত ৭ ও ৮ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে কিষ্টাপুর গ্রামে প্রায় ১০০টি পথকুকুরকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগকারী, 'স্ট্রে অ্যানিমেল ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া' (একটি এনজিও)-তে 'ক্রুয়েলটি প্রিভেনশন ম্যানেজার' বা নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। তাঁর অভিযোগ , কিষ্টাপুর গ্রামের সরপঞ্চ এবং গ্রাম পঞ্চায়েত সচিব দু'জন ব্যক্তিকে নিয়োগ করেছিলেন। ওই ব্যক্তিরা বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে পথকুকুরগুলোকে হত্যা করে এবং পরবর্তীতে সেগুলোকে নদীর পাড়ে পুঁতে দিয়েছে।

পুলিশ পিটিআই-কে জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে সরপঞ্চ এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে জন্নরাম থানায় 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'-র প্রাসঙ্গিক ধারা এবং 'পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইন'-এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, এই ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম জারি রয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি এবং গত বছরের ডিসেম্বরে তেলেঙ্গানার বিভিন্ন জেলা থেকে পথকুকুরদের নাগাড়ে হত্যার বেশ কয়েকটি ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছিল। এর আগে জানুয়ারি মাসে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৫০০টি কুকুরকে হত্যা করা হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ওই ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু করেছিল।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে তেলেঙ্গানার কামারেড্ডি জেলায়ও প্রায় ২০০টি কুকুরকে নিধন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পশু কল্যাণ কর্মী গৌতম এর আগে জানিয়েছিলেন যে, তিনি ভবানীপেট গ্রামে কুকুরদের মৃতদেহ স্তূপ করে ফেলে রাখা অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে, পালওয়ানচা, ফরিদপেট, ওয়াদি এবং বান্দারামেশ্বরপল্লী এলাকাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুসারে, এই ধরনের ঘটনায় মোট পথ কুকুরদের মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩০০-তে পৌঁছেছে। এরপর পশু কল্যাণ কর্মীদের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সরপঞ্চ, তাঁর স্বামী, গ্রাম পঞ্চায়েত সচিব এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে গ্রামবাসীদের কাছে করা প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে (যার মূল বিষয় ছিল বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব মোকাবিলা) সরপঞ্চ-সহ কয়েকজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিই এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছেন।

পিটিআই -কে দেওয়া তথ্যে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, “গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে, কয়েকজন প্রার্থী গ্রামবাসীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে- তাঁরা বেওয়ারিশ কুকুর ও বাঁদরের উপদ্রব মোকাবিলা করবেন। অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁরা এখন বেওয়ারিশ কুকুর হত্যা করার মাধ্যমেই সেই প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করছেন।”