আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করে চিনের নতুন ‘কাল্পনিক’ নাম দেওয়ার অপচেষ্টাকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় খারিজ করে দিয়েছে ভারত। রবিবার (১২ এপ্রিল) ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরণের ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যান তৈরির চেষ্টা কোনওভাবেই এই অকাট্য বাস্তবতাকে পরিবর্তন করতে পারবে না যে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের ছিল, আছে এবং চিরকাল ভারতেরই থাকবে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে চিনের এই পদক্ষেপকে ‘কাল্পনিক নামকরণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, ভারত এই প্রচেষ্টাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ধরণের কাজ কেবল সম্পর্কের মধ্যেই নেতিবাচকতা তৈরি করে না, বরং দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক করার যে প্রক্রিয়া চলছে, তাকেও চরমভাবে ব্যাহত করে। চিনের বোঝা উচিত যে মিথ্যা দাবি করে কোনও অঞ্চলের ভৌগোলিক সত্য বা সার্বভৌমত্বকে বদলে দেওয়া যায় না।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত ১০ এপ্রিল, যখন চিনের নাগরিক বিষয়ক মন্ত্রক অরুণাচল প্রদেশের ২৩টি স্থানের জন্য তথাকথিত ‘প্রমিত’ বা স্ট্যান্ডার্ড নামের একটি ষষ্ঠ তালিকা প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, চিন অরুণাচলকে ‘জাংনান’ বলে দাবি করে এবং ২০১৭ সাল থেকেই এই ধরণের নামকরণের কৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছর মে মাসে তারা পঞ্চম তালিকা প্রকাশ করেছিল এবং ২০২৫ সালের মার্চ মাসেও ৩০টি স্থানের নাম পরিবর্তনের দাবি করেছিল। এবারের ২৩টি স্থানের তালিকায় বেশ কিছু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি গিরিপথ, শৃঙ্গ এবং জনবসতি রয়েছে যা মূলত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।
সীমান্তের এই উত্তেজনা কেবল অরুণাচলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সম্প্রতি চিন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে জিনজিয়াং প্রদেশে ‘চেনলিং’ নামে একটি নতুন জেলা বা কাউন্টি গঠন করেছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও আকসাই চিনের বিতর্কিত অংশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন প্রশাসনিক এলাকা তৈরির ঘোষণা করেছিল বেজিং। এই প্রতিটি পদক্ষেপের ক্ষেত্রেই ভারত কূটনৈতিক স্তরে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, চিনের এই ধরণের জবরদখল বা প্রশাসনিক রদবদল কোনওভাবেই আন্তর্জাতিক স্তরে বৈধতা পাবে না।
২০২৪ সালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা কাটানোর জন্য যখন দুই দেশ বেশ কিছু গঠনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল, ঠিক তখনই চিনের এই নতুন উস্কানি কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, নিজের ভূখণ্ড রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে তারা সর্বদা বদ্ধপরিকর এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। চিনের এই ধরণের একতরফা পদক্ষেপ কেবল দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক আস্থাকেই তলানিতে নিয়ে যাচ্ছে।















