আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে। উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন এই চুক্তিকে মাদার অফ অল ডিলস অর্থাৎ সব চুক্তির জননী বলে অভিহিত করেছেন। কেন এই চুক্তিকে সব চুক্তির জননী বলা হচ্ছে? এতে কী সুবিধা হবে ভারতের? এই চুক্তি কি আক্ষরিক অর্থেই সব চুক্তির জননী?
কী কী সুবিধা হতে পারে এই চুক্তির জন্য?
শুরুতেই উল্লেখ্য, ২০০৪ সাল থেকেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কৌশলগত অংশীদার। এই চুক্তি হলে, প্রায় ২০০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এই চুক্তির ফলে। বিশ্বজুড়ে জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ জুড়ে থাকবে এই চুক্তির ফলাফল।
মনে করা হচ্ছে, প্রস্তাবিত সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স পার্টনারশিপ চুক্তি দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করবে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সামঞ্জস্য বাড়বে।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ‘সেইফ’ (সিকিউরিটি অ্যাকশন ফর ইউরোপ) কর্মসূচিতে ভারতীয় সংস্থাগুলির অংশগ্রহণের রাস্তাও খুলে যাবে। ভারত ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন প্রথমবার এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল ২০০৭ সালে।
তবে ২০১৩ সালে সেই আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালের জুন মাসে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়। মনে করা হচ্ছে, এই চুক্তি সফল হলে ইউরোপে ভারতীয় কর্মীদের যাতায়াত ও কর্মসংস্থান সহজ করতে একটি মউ স্বাক্ষরিত হতে পারে।
এছাড়াও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সহ বিশ্বের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব বিষয়ে মতের মিত না থাকলেও বেশ কিছু মৌলিক স্বার্থে ভারত ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন একমত।
গত কয়েক বছরে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক ক্রমশ মজবুত হয়েছে। পণ্য বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় অংশীদার। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত-ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পণ্য বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি প্রায় ৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার।
এই চুক্তি কার্যকর হলে, ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশেই বিনা শুল্কে ভারতের ৯০ শতাংশ পণ্য রপ্তানি করতে পারবে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলি থেকে প্রায় ৯৬.৬ শতাংশ পণ্য ভারতে ঢুকতে পারে বিনা শুল্কেই। ফলে ভারত এবং ইউরোপের ওই দেশগুলির ব্যবসায়ীদের, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধা হবে।
এই চুক্তি কার্যকর হলে, ভারতের বাজারে সস্তা হতে পারে ওয়াইন। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, এই চুক্তির মধ্যে ভারতের দুগ্ধ, দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষিক্ষেত্রকে যুক্ত করা হচ্ছে না।
