আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬। বুধবার। ভারতের রাজনীতি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিমান বিপর্যয় এবং মৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি নাম। অজিত পাওয়ার। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, বুধবার বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর। অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে একদিকে যেমন রাজনীতিতে শোকের ছায়া, তেমনই জোর চর্চা একাধিক বিষয়ে। অজিতের জায়গায় এনসিপি'র শীর্ষপদে কে বসবেন, তাঁর স্ত্রীই কি এবার মহারাষ্ট্রের পরবর্তী উপমুখ্যমন্ত্রী? 


এসবের মাঝেই, সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের চিঠির উত্তর দিয়েছে সরকার। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে  খবর, সরকার জানিয়েছে যে ব্ল্যাক বক্সটি সুরক্ষিত রয়েছে এবং দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত সমস্ত প্রযুক্তিগত রেকর্ড, পরিচালনা সংক্রান্ত বিবরণ এবং তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের চিঠির জবাব দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক। বারামতীতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার বিবরণ চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। তারই জবাব দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক। 

 

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, অজিত পাওয়ারের উড়ান সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, যাত্রার প্রথম দিকে সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। ১০ মিনিটের মধ্যেই বিমানটি প্রায় ছ’কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছে যায় এবং তার গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০৩৬ কিলোমিটার। উড়ানের ২৪ মিনিট পর কিছু সময়ের জন্য বিমানটি নজরদারি সঙ্কেত পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। কয়েক মিনিট পরে আবার সেই সঙ্কেত ফিরে এলেও সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে বিমানটি পুরোপুরি নিশ্চুপ হয়ে যায়। ওই সময়েই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে। ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানের উচ্চতা নেমে এসেছিল প্রায় ১০১৬ মিটারে এবং গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৩৭ কিলোমিটার, যা অবতরণের সময় স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। সকাল ৮টা ৪৪ মিনিট নাগাদ এটিসি-র সঙ্গে বিমানের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক পরে জানায়, সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে প্রথম বার বারামতীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমানটি। দ্বিতীয় বার যোগাযোগ হয় বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকাকালীন। তখন পাইলটদের ‘ভিজ়্যুয়াল মিটিওরজিক্যাল কন্ডিশন’ অনুযায়ী নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পাইলটেরা হাওয়ার গতি ও দৃশ্যমানতা সম্পর্কে জানতে চাইলে জানানো হয়, বাতাস স্বাভাবিক এবং দৃশ্যমানতা প্রায় ৩ হাজার মিটার। তবু শেষ পর্যন্ত তাঁরা প্রথম চেষ্টায় রানওয়ে দেখতে পাননি।

 সেই তথ্য বিমান চালক সেই মুহূর্তেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অর্থাৎ এটিসি'কে জানিয়েছিলেন বলেও খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে। এই প্রসঙ্গে তথ্য, বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রথমবার অবতরণ করার সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)–এর তরফে বিমানটির পাইলটকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রানওয়ে দেখা যাচ্ছে কি না। জবাবে পাইলটের তরফে নেতিবাচক উত্তর আসে। বিমানটি আর এক চক্কর কেটে দ্বিতীয়বার অবতরণ করার চেষ্টা করে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বিতীয়বার একই প্রশ্নের উত্তরে ইতিবাচক উত্তর দিয়েছিলেন পাইলট। বৃহস্পতিবারই বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। ব্ল্যাক বক্সেই বিমানের সমস্ত ডেটা রেকর্ড থাকে। রেকর্ড থাকে ককপিটের কথোপকথন। সেটি পরীক্ষা করার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।