আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিপদে পড়ছে ভারত। এক অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমন তথ্যই।
যেখানে বলা হয়েছে, ভারতকে দ্রুত তাদের কৌশল নতুন করে সাজাতে হবে। এই সমীক্ষার স্পষ্ট বক্তব্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজকে ঘিরে বিশ্ব যেভাবে নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে সেখানে ‘কৌশলগত অপরিহার্যতা’ অর্জন করতে না পারলে ভারত বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়ত পারে।
বিশ্বকে নতুন ভাবে গঠন করার কেন্দ্রে রয়েছে ‘প্যাক্স সিলিকা’ নামক একটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ। যার লক্ষ্য এআই ভ্যালু চেনের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।
এর আওতায় শক্তির উৎস, বিরল খনিজ, চিপ উৎপাদন এবং সফটওয়্যার মডেলের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষার মতে, এই নতুন ব্যবস্থাই তেল ও ইস্পাতনির্ভর যুগের অবসান ঘটিয়ে এমন এক সময়ের সূচনা করছে, যেখানে ‘কম্পিউটার’ বা সেই চালিত শক্তিই হয়ে উঠবে ক্ষমতার প্রধান নিয়ামক।
প্রযুক্তিগত বিশ্বের মানচিত্র নতুন করে আঁকতে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। উন্নত সেমিকন্ডাক্টর ও সেগুলি তৈরির প্রযুক্তিতে চিনের প্রবেশ রুখতে একাধিক রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।
এর পাল্টা জবাবে, চিন বিরল খনিজ ও পার্মানেন্ট ম্যাগনেটের রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এগুলি আবার উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি, একাধিক বিদেশি সংস্থাকে তাদের ‘আনরিলায়েবল এন্টিটিজ লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করেছে বেজিং। সমীক্ষা বলছে, এই পদক্ষেপগুলি কোনও প্রতীকী লড়াই নয়।
বরং এটা দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের পূর্ণাঙ্গ ‘কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র ইঙ্গিত। এই নীতিতে দুই দেশই দক্ষতা-নির্ভর মুক্ত বাণিজ্য থেকে সরে এসে রাজনৈতিক বিবেচনায় চালিত অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
একই সঙ্গে চিনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষার বর্ণনায় উঠে এসেছে মন্দা, মূল্যপতন, দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদার ছবি।
দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদন ও রপ্তানির ওপর আরও বেশি করে নির্ভরযোগ্য করছে চিন। এই পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হাইনানে ‘ফ্রি ট্রেড পোর্ট’ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে বেজিং, যার উদ্দেশ্য শুল্ক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিয়ম ধীরে ধীরে শিথিল করা।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত একটি একচেটিয়া প্রযুক্তি জোট গড়ে তুলতে এগোচ্ছে। ‘প্যাক্স সিলিকা’-র মাধ্যমে তারা একই মানসিকতার দেশগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে যাতে একটা সুরক্ষিত এআই ইকোসিস্টেম তৈরি করা যায়।
এই নতুন ব্যবস্থায় ক্ষমতা যাবে সেই দেশগুলির হাতে, যারা উন্নত উপকরণ, গুরুত্বপূর্ণ এপিআই এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের জন্য বার্তা স্পষ্ট।
অর্থনৈতিক সমীক্ষার মতে, শুধু ‘ব্যাক-অফিস’ অর্থনীতি হিসেবে সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না। মার্কিন এই সংস্থার তৈরি ভ্যালু চেনে এমন কিছু পণ্য ও পরিষেবার মাধ্যমে ভারতকে নিজেদের জায়গা পাকা করতে হবে, যেগুলির সহজ বিকল্প নেই।
এর জন্য প্রয়োজন দেশের অন্দরে উদ্ভাবনের ক্ষমতাকে আরও জোরদার করা। পাশাপাশি, ধীরে ধীরে বিদেশি ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানো। তা না হলে, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির তুলনায় ক্রমশ পিছিয়ে পড়তে হবে ভারতকে।
