আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০১৭ সাল থেকে ভারতে ম্যানহোল বা সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬২২ জন সাফাই কর্মী। গত মঙ্গলবার সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ইকরা চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে লোকসভায় এই তথ্য পেশ করেছেন সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি ৮৬ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তালিকায় এর পরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র (৮২), তামিলনাড়ু (৭৭), হরিয়ানা (৭৬), গুজরাট (৭৩) এবং দিল্লি (৬২)। 

মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সরকার জানিয়েছে, ৫৩৯টি পরিবারকে পূর্ণ এবং ২৫টি পরিবারকে আংশিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। তবে ৫২টি পরিবার এখনো কোনও  আর্থিক সাহায্য পায়নি এবং ৬টি মামলা কোনও  সমাধান ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে ১৩টি পরিবার কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি বলে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। যদিও পরিবারপিছু ঠিক কত টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট কোনও  তথ্য দেননি। 

সাফাই কাজকে সরকার 'জাতিভিত্তিক' নয় বরং 'পেশাভিত্তিক' কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করলেও বাস্তবের চিত্রটি বেশ জটিল। তথ্য অনুযায়ী, মজুরি না পাওয়া, সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব এবং জাতিভিত্তিক বৈষম্যের মোট ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো থেকে। এর মধ্যে ১৩০টি অভিযোগই কেবল উত্তরপ্রদেশের। 

বিস্ময়কর বিষয় হল, মন্ত্রী দাবি করেছেন যে 'ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জার্স' নিষিদ্ধকরণ ও পুনর্বাসন আইন ২০১৩-এর অধীনে পরিচালিত নতুন সমীক্ষায় দেশের কোনও  জেলাতেই এখন আর হাতে নোংরা পরিষ্কার করার প্রথা খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ ২০১৩ এবং ২০১৮ সালের সমীক্ষায় দেশে ৫৮,০৯৮ জন এমন কর্মী শনাক্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, 'দলিত আদিবাসী শক্তি অধিকার মঞ্চ' (DASAM) দাবি করেছে, কেবল ২০২৪ ও ২০২৫ সালেই ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিংয়ের কারণে যথাক্রমে ১১৬ ও ১৫৮ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গত বছর সুপ্রিম কোর্টও দেশের বড় শহরগুলোতে এই প্রথা বন্ধে সরকারের ধোঁয়াশাপূর্ণ ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছিল। 

সাফাই কর্মীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকার বর্তমানে 'নমস্তে' (NAMASTE) প্রকল্পের ওপর জোর দিচ্ছে। ১২ মার্চ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে প্রায় ৮৯ হাজার সেপটিক ট্যাঙ্ক কর্মী এবং ২ লাখ ৩৪ হাজার বর্জ্য সংগ্রাহককে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পুরনো পুনর্বাসন প্রকল্পগুলোকেও এখন এই বড় প্রকল্পের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে বলে মন্ত্রী সভায় জানান।