আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি বছর সময়ের আগে তীব্র দাবদাহ শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। আর গরম পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। সমতলের পাশাপাশি এবার অস্বাভাবিক গরমে নাজেহাল পাহাড়ি এলাকাও।

এমনকী, হিমালয়ের পাদদেশেও তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। মার্চ থেকে মে পর্যন্ত মৌসম ভবনের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, হিমালয় সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি গরম পড়তে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে হিমাচল প্রদেশের অধিকাংশ পাহাড়ি এলাকা, জম্মু ও কাশ্মীরের একটা বড় অংশ এমনকী উত্তরাখণ্ডের একাধিক পার্বত্য অঞ্চলও। চলতি বছর মার্চের শুরুতেই হিমাচল প্রদেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৮ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

রাজ্যের বহু এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। গত পাঁচ বছরে মধ্যে এত তাড়াতাড়ি এতটা তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া এই প্রথম। তাপপ্রবাহ থেকে দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সিমলা ও মানালিও রেহাই পায়নি।

এপ্রিল মাসে সিমলায় তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৭ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি। মানালিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

মৌসম ভবনের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, হিমাচলের একাধিক জেলায় এখনও তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে।

২৬ এপ্রিল হিমাচল প্রদেশের কয়েকটি জেলায় হলুদ সতর্কতাও জারি করেছে হাওয়া অফিস। উত্তরাখণ্ডের জনপ্রিয় পাহাড়ি শহর মুসৌরি ও নৈনিতালেও একই ছবি দেখা গিয়েছে।

যে সব জায়গায় মানুষ সাধারণত গরম থেকে বাঁচতে আশ্রয় নেন এবারে সেখানেও তীব্র দাবদাহের মতো পরিস্থিতি। গত ২৬ এপ্রিল মুসৌরিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্যবার, এখানে এপ্রিল মাসে এখানকার গড় তাপমাত্রা সাধারণত ১৭ থেকে ২৩ ডিগ্রির মধ্যে থাকে। নৈনিতালেও সম্প্রতি দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে।

সাধারণত পাহাড়ি এলাকায় মে ও জুন মাসে তাপমাত্রা সামান্য বাড়ে। কিন্তু এপ্রিলের মাঝামাঝি এবং শেষের দিকে তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া বিরল ঘটনা বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

এই বছর গোটা ভারতেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি গরম পড়েছে। দেশের একাধিক অঞ্চলে এপ্রিলেই রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা বেড়েছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত মৌসম ভবনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের পূর্ব, মধ্য, উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্বের বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপপ্রবাহ লক্ষ্য করা যাবে।

আরও উদ্বেগের বিষয়, এই পাহাড়ি অঞ্চলগুলির উপর নির্ভরশীল ১২টি প্রধান নদীর মধ্যে ১০টিতেই স্বাভাবিকের তুলনায় কম বরফ জমেছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার গত কয়েক বছরে এটাই সবথেকে কম পরিমাণ বরফ জমা।

যে কারণে সমতলের বাসিন্দাদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে বিশেষ করে যাঁরা নদীর জলের উপর নির্ভরশীল। সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীর উৎস পার্বত্য অঞ্চল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারে পাহাড়ও তাপপ্রবাহের হাত থেকে নিরাপদ নয়। জলবায়ু পরিবর্তন ভারতের গ্রীষ্মের চরিত্র বদলে দিয়েছে। সেই পরিবর্তনের শিকার হতে হয়েছে পাহাড়কেও।