আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার ফিনল্যান্ড সফরে গিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলির 'দ্বিচারিতাকে' কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেখানে এক সাংবাদিক ভারতকে রাশিয়ার প্রতি ‘অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল’ এবং ‘রাশিয়ার থেকে তেল কিনতে অতি-উৎসাহী’ বলে অভিযুক্ত করার পরই পাল্টা তোপ দাগেন তিনি।
‘কুলতারান্তা টকস’-এ একটি আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। সেখানেই ইউরোপের ‘নৈতিক অস্পষ্টতা’ তুলে ধরে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। ভারতকে আক্রমণকারী দেশগুলির কাছে ইউরোপের অস্ত্র বিক্রির প্রসঙ্গ টেনে বিদেশমন্ত্রী সাফ জানান, ভারত কখনও ইউরোপের ক্ষতি করার মতো কোনও কাজ করেনি।
বিদেশমন্ত্রীর স্পষ্ট মন্তব্য, "ভারতীয় অস্ত্র দিয়ে কোনও ইউরোপীয় দেশে হামলা চালানো হয়নি। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে ইউরোপের অস্ত্র নিয়ে আমি এই দাবি করতে পারছি না।"
নিজের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, "ইউরোপ এমন সব দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে, যা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। এটা শুধু এখন নয়, বহু বছর ধরে চলছে। আমরা ভারতীয়রা কখনও এমন কিছু করিনি যা ইউরোপের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে। আমার মনে হয়, এটা অত্যন্ত যৌক্তিক একটি কথা।"
রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়েও পরিস্থিতি স্পষ্ট করেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই খোদ আমেরিকা ভারতকে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার অনুরোধ করেছিল।
তাঁর কথায়, "দাম এবং বাজারে কতটা পাওয়া যাচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করেই আমি তেল কিনি।" জয়শঙ্কর মনে করিয়ে দেন, "সেই সময় বাজারে মজুত তেলের একটা বড় অংশই আসছিল রাশিয়া থেকে। কারণ ইউরোপীয় দেশগুলি মূলত পশ্চিম এশিয়ার তেল কিনছিল, যা প্রথাগতভাবে আমাদের প্রধান সরবরাহকারী ছিল।" কূটনীতিক জয়শঙ্কর আরও যোগ করেন, "পরিস্থিতিই আমাদের একটি নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে দিয়েছিল।"
এরপরই আমেরিকার 'নীতিগত স্ববিরোধিতা'কে কাঠগড়ায় তোলেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন, মার্কিন প্রশাসন প্রথমে রুশ তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর কর চাপিয়েছিল, কিন্তু পরে আবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
আমেরিকাকে বিঁধে জয়শঙ্করের মন্তব্য, "এখন যদি পরিস্থিতি দেখেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য আমাদের ওপর কর চাপানোর পর আমেরিকা আবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলেও নিয়েছে। তাই এর মধ্যে কোনও মহান আদর্শ লুকিয়ে রয়েছে, এমন ভান করার প্রয়োজন নেই। আমার মনে হয় না এই বিষয়টিকে অন্য রূপ দেওয়ার কোনও যুক্তি আছে।"
ইউক্রেন সংঘাত মেটাতে ভারত বরাবরই আলোচনা ও কূটনীতির পথ অনুসরণের পক্ষে সওয়াল করেছে। একই সঙ্গে রুশ তেল আমদানির বিষয়ে দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করে ভারত বারবারই জানিয়েছে, দেশের জাতীয় স্বার্থ, নাগরিকদের কল্যাণ এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই বিশ্ববাজার থেকে তেল কেনা হচ্ছে।















