আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ভারতের চলতি বর্ষা সিজনে মাঝারি থেকে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর।  শুক্রবার প্রকাশিত মাসিক বুলেটিনে জানানো হয়েছে, বর্ষার বাকি সময়জুড়ে এল নিনোর প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোল নিরপেক্ষ অবস্থাতেই থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা বর্ষার বৃষ্টিপাতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।


মূল্যায়ন অনুযায়ী, এবছর দেশের মৌসুমি বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের প্রায় ৯০ শতাংশ হতে পারে। অর্থাৎ, সার্বিকভাবে বর্ষা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা দুর্বল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে কৃষি, জলসম্পদ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে।


আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই দেশের ১৯৭টি জেলাকে এল নিনোর প্রভাবের দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি, দীর্ঘ সময় শুষ্ক আবহাওয়া এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টিনির্ভর কৃষির উপর নির্ভরশীল এলাকাগুলিতে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি জলবায়ুগত ঘটনা। এর প্রভাব শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আবহাওয়ার ধরনেও পরিবর্তন আনে। ভারতে সাধারণত শক্তিশালী এল নিনোর সময় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিপাত দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে খরার ঝুঁকি বেড়ে যায়।


অন্যদিকে, ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোল যদি ইতিবাচক অবস্থায় থাকে, তবে তা অনেক সময় এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাবকে কিছুটা প্রশমিত করতে পারে। তবে সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নিরপেক্ষ অবস্থায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে এল নিনোর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এই জলবায়ুগত উপাদান থেকে বিশেষ সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।


আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্ষার বৃষ্টিপাতে আঞ্চলিক বৈষম্যও দেখা দিতে পারে। কোথাও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি, আবার কোথাও স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে কৃষকদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। কৃষি, জলসংরক্ষণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত বিভিন্ন দফতরকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বৃষ্টির ঘাটতি বা আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রভাব যতটা সম্ভব কমানো যায়।

 


বর্ষা ভারতের কৃষি ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে এই সতর্কবার্তা কৃষক এবং সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী কয়েক সপ্তাহে আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করেই বর্ষার সামগ্রিক চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।