আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৪ সালের শান্তিচুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আত্মসমর্পণকারী এনএলএফটি ও এটিটিএফ -এর প্রাক্তন সদস্যদের ডাকা ৭২ ঘণ্টার সড়ক ও রেল অবরোধ কর্মসূচির জেরে শুক্রবার ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। পরবর্তী সময়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা: মানিক সাহার হস্তক্ষেপে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে।
উল্লেখ্য, আন্দোলনকারীরা ‘তিপ্রাসা ইউনিটি ফর জাস্টিস’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পশ্চিম ত্রিপুরা ও খোয়াই জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করা হয়। বড়মুড়া-হাতাইকতর এলাকার চন্দ্রসাধুপাড়া, মান্দাইয়ের ভূগুদাসবাড়ি রেলপথ এলাকা এবং সুবল সিং এলাকায় জাতীয় সড়কে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন আন্দোলনকারীরা। বড়মুড়া এলাকায় রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদও জানানো হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভারত সরকার, ত্রিপুরা সরকার এবং আত্মসমর্পণকারী বৈরী সংগঠনগুলির মধ্যে ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তিতে পুনর্বাসন, উন্নয়ন ও অন্যান্য সুবিধা সংক্রান্ত যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। চুক্তির শর্তগুলি দ্রুত কার্যকর করার দাবিতেই এই অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয় বলে জানান তারা।
অবরোধের ফলে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত জাতীয় সড়কে যান চলাচল এবং রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও নিত্যযাত্রী সহ মাল বুঝাই লড়ি সহযাত্রীবাহী রেল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অবরোধস্থলে পৌঁছান জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সরকারের পক্ষ থেকে দাবিগুলি বিবেচনার আশ্বাস দেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। মন্ত্রীর কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনকারীরা।
অবরোধ তুলে নেওয়ার পর জাতীয় সড়ক ও রেল চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। তবে শান্তিচুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি ও অবস্থান অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন।















