আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরীক্ষায় দুর্নীতি এবং লাদাখের স্বার্থ- জোড়া দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালাচ্ছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
শনিবার তাঁর আমরণ অনশন ১৪ দিনে পড়ল। এই আবহে নিজেকে ‘আধুনিক গান্ধী’ বা ‘নায়ক’ ভাবার তত্ত্ব এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিলেন ওয়াংচুক। সাফ জানালেন, তিনি আর পাঁচটা মানুষের মতোই একজন ‘সাধারণ নাগরিক’। দেশবাসীর উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, অন্য কারও মধ্যে 'নেতা' না খুঁজে প্রত্যেকে যেন নিজের নাগরিক দায়িত্ব পালন করেন।
প্রসঙ্গত, পরীক্ষা-দুর্নীতির অভিযোগে যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র অবস্থান বিক্ষোভ শনিবার ২২ দিনে পা দিল। গত ২৮ জুন এই আন্দোলনে যোগ দিয়েই অনশন শুরু করেন ওয়াংচুক। আন্দোলনকারীদের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, লাগাতার অনশনের জেরে ইতিমধ্যেই তাঁর ওজন সাড়ে সাত কেজি কমে গিয়েছে। রক্তচাপ নেমে দাঁড়িয়েছে ১০৬/৭৪-এ।
শুক্রবার রাতে সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক জানান, শারীরিক শক্তি কমলেও জেদ কমেনি তাঁর। তিনি বলেন, ‘‘আজ অনশনের ১৩ নম্বর দিনে শরীরটা ঠিক জুত লাগছে না। কিছুটা ক্লান্তি বোধ করছি। তবে এমনটা হতেই পারে- সব দিন তো আর সমান যায় না।’’
সোশাল মিডিয়ায় আন্দোলনের প্রতি আমজনতার সমর্থনে তিনি আপ্লুত হলেও, কিছু মন্তব্য তাঁকে ব্যথিত করেছে।
ওয়াংচুক বলেন, ‘‘অনেকে আমাকে একবিংশ শতাব্দীর গান্ধী বলছেন, কেউ বলছেন নায়ক। এই কথাগুলো আমাকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে। আমি কোনওটাই নই। আমি শুধু একজন সাধারণ নাগরিক, যে নিজের দায়িত্বটুকু পালন করার চেষ্টা করছে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘অন্য কারও মধ্যে হিরো না খুঁজে, নিজের জীবনের হিরো নিজে হয়ে উঠুন।’’
পরীক্ষায় কারচুপির জেরে যে সমস্ত পড়ুয়ারা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের জন্য দেশবাসীকে পথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন ওয়াংচুক। তিনি বলেন, ‘‘আজ যদি আপনার ঘরের মেয়ে বা বোনের সঙ্গে এমনটা হতো, আপনি ঘরে বসে থাকতেন না। তাই সেই বিপদের জন্য অপেক্ষা না করে এখনই রুখে দাঁড়ান। রোজ আসতে না পারলে অন্তত একদিনের জন্য যন্তর মন্তরে আসুন। আর যাঁরা দিল্লিতে আসতে পারবেন না, তাঁরা যে যেখানে আছেন, সেখান থেকেই একদিন উপবাস রেখে প্রতিবাদ জানান।’’
আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। সেই মিছিলে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ওয়াংচুক বলেন, ‘‘আপনাদের আমাদের মতো দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে হবে না। আপনারা খেয়েদেয়েই আসুন। কিন্তু দেশের নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ২০ তারিখের মিছিলে পা মেলান।’’
প্রশাসন তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে সরানোর চেষ্টা করলে তা যে ভালো চোখে দেখা হবে না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ওয়াংচুক। তিনি জানান, শরীর এখন মানিয়ে নিয়েছে এবং তিনি নিজের ইচ্ছায় এখানে বসেছেন। তাঁকে জোর করে সরালে তা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং মৃত পড়ুয়াদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনড় আন্দোলনকারী সংগঠন সিজেপি।















