আজকাল ওয়েবডেস্ক: বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালুর সময়সীমা ঘোষণা করল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, আগামী ১৫ আগস্ট ২০২৭ থেকে দেশের প্রথম হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন পরিষেবা ধাপে ধাপে চালু করা হবে। প্রথম পর্যায়ে চালু হবে সুরাট–বিলিমোরা অংশে ট্রেন চলাচল। এর মাধ্যমে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চগতির রেল যুগে প্রবেশ করবে।


ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প হল মুম্বই-আমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডর। মোট ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরটি একসঙ্গে নয়, বরং কয়েকটি ধাপে যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সুরাট–বিলিমোরা অংশ চালুর পর পর্যায়ক্রমে ভাপি–সুরাট, ভাপি–আমেদাবাদ, আমেদাবাদ–থানে এবং সবশেষে আমেদাবাদ–মুম্বই অংশে পরিষেবা চালু হবে।


রেল মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরিষেবা চালু করার লক্ষ্যে জোরকদমে কাজ চলছে। অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ভারতের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে চলেছে।


মুম্বই ও আমেদাবাদের মধ্যে বর্তমানে ট্রেনে যাতায়াতে যে সময় লাগে, বুলেট ট্রেন চালু হলে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। পাশাপাশি জাপানের অত্যাধুনিক হাই-স্পিড রেল প্রযুক্তির ব্যবহার ভারতীয় রেল ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধু যাত্রী পরিষেবাকেই আধুনিক করবে না, বরং শিল্প, ব্যবসা, পর্যটন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।


রেলমন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্র সরকার ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষ করে হায়দরাবাদকে কেন্দ্র করে তিনটি নতুন বুলেট ট্রেন করিডর তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। এগুলি হল পুনে–হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ–চেন্নাই এবং হায়দরাবাদ–বেঙ্গালুরু রুট। এছাড়াও হায়দরাবাদ–মুম্বই বুলেট ট্রেন করিডরের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই মহানগরের মধ্যে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমিয়ে দেবে।


অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের রেল ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “হায়দরাবাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী তিনটি বুলেট ট্রেন করিডর অনুমোদন করেছেন, যা শহরের উন্নয়নের ছবিই বদলে দেবে।”


এদিকে, শুধু বুলেট ট্রেন নয়, দেশের সাধারণ রেল পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। ‘নব-নির্মাণ’ উদ্যোগের আওতায় দেশের ২৬১টি রেল স্টেশন আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। যাত্রী সুবিধা বৃদ্ধি, উন্নত কাঠামো, আধুনিক অপেক্ষাকক্ষ, উন্নত প্রবেশপথ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি। তেলেঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদ, বেগমপেট এবং হাইটেক সিটি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে ইতিমধ্যেই পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।


ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন চালু হওয়া শুধু রেল পরিবহণের ইতিহাসেই নয়, দেশের আধুনিক কাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী বছরের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দ্রুতগতির গণপরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

&t=1s