আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও, সেখানে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া। ইরানের কাছে এই যুদ্ধ এখন আয়ের একটি বিশাল উৎসে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'সুপারপাওয়ার' বা 'পরাশক্তি' হিসেবে নিজেদের যে অবস্থান, তা যেন এখন নস্যাৎ হওয়ার উপক্রম। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ইরান জোর করে ২ মিলিয়ন ডলার করে আদায় করেছে।
হরমুজ প্রণালী পারাপারের জন্য কী ইরান ভারতের কাছ থেকেও টোল দাবি করছে?
পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে আটকে পড়া বেশ কিছু ভারতীয় জাহাজ ও ট্যাঙ্কারও হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে সপেরেছে। এখন প্রশ্ন হল - ইরান কি ভারতের 'বন্ধু' হিসেবে নিজেদের তুলে ধরে উএই জাহাজগুলোর কাছ থেকেও কোনও মাশুল আদায় করেছে? যদিও তেহরান ঘোষণা করেছে যে, তারা হরমুজ প্রণালীতে 'টোল' বা মাশুল আরোপ করবে। তবে বিষয়টি এখনও অস্পষ্ট যে- এই নিয়ম ভারত এবং বাকি সেই চার দেশের (রাশিয়া, চীন, ইরাক ও পাকিস্তান) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে কি না। এই পাঁচ দেশের জাহাজকে, ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগেই এই মাশুল থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল।
টোল বা মাশুল নিয়ে ইরানের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি:
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে, টোল বা মাশুল সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে 'কোনও আলোচনাই' হয়নি।
ইরানকে টোল দিতে অস্বীকার ভারতের:
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগেই ইরানের পক্ষ থেকে টোল আদায়ের খবর পাওয়া গিয়েছিল। ইরান এও নিশ্চিত করেছিল যে, ওমানের সহযোগিতায় তারা এ বিষয়ে একটি প্রোটোকল বা কার্যপদ্ধতি তৈরি করেছে, যার প্রতি পরবর্তীতে ওমানও সম্মতি জানিয়েছিল।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর সীমিত অনুমতি দিয়েছে। সেই সুবাদে, একটি 'বন্ধুরাষ্ট্র' হিসেবে ভারতের অন্তত আটটি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে নিরাপদে এই প্রণালী অতিক্রম করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে, এর বিনিময়ে ভারতকে কী কোনও টোল বা মাশুল দিতে হয়েছে? ভারত স্পষ্টভাবে এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে।
পশ্চিম এশীয় সঙ্কটকে কেন্দ্র করে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর, ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল আয়োজিত এক সংবাদিক বৈঠকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ফের একই কথা জানিয়েছে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের (হরমুজ প্রণালী) বর্তমান পরিস্থিতি:
* যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালীটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
* মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালীটি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
* তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোর দায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
* বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ এখনও ব্যাহত হচ্ছে।















