আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেঙ্গালুরুতে জ্যোতিষীর ফাঁদে পড়ে ২ লক্ষ টাকা খোয়ালেন এক তরুণী। অন্যদিকে, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে এক মহিলা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল সাইবার প্রতারকদের বিরুদ্ধে। কর্নাটকের এই জোড়া প্রতারণার ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতারিত ওই তরুণীর বয়স ২১ বছর। তিনি কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুর আডুগোড়ি এলাকায় একটি বাড়িতে পেয়িং গেস্ট (পিজি) হিসেবে থাকেন। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে ‘কষ্ট থেকে মুক্তি’ পাওয়ার একটি বিজ্ঞাপন তাঁর চোখে পড়ে। সেখানে একটি নম্বর ছিল। যোগাযোগ করলে নিজেকে চন্দ্রশেখর সুগত গুরুজি বলে পরিচয় দেন এক ব্যক্তি।
অভিযোগ, ওই ব্যক্তি তরুণীকে জানান যে তাঁর কোষ্ঠীতে অনেক বাধা রয়েছে। সেই কারণেই তাঁর বিয়েতে সমস্যা হচ্ছে। সেই বাধা কাটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত ৫ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে দফায় দফায় ওই তরুণীর থেকে মোট ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন ওই স্বঘোষিত জ্যোতিষী। এরপর থেকেই ওই ব্যক্তি তরুণীর ফোন ধরা বন্ধ করে দেন। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে আডুগোড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
অন্যদিকে, এক মহিলা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা লুট করেছে জালিয়াতরা। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই মহিলা বেঙ্গালুরুর বিজ্ঞান নগর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, গত জুন মাসে ওই মহিলার কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের ওপ্রান্ত থেকে জনৈক ব্যক্তি নিজেকে কুরিয়ার সংস্থার আধিকারিক বলে পরিচয় দেয়। তাঁকে জানানো হয়, তাঁর আধার কার্ড ব্যবহার করে একটি পার্সেল পাঠানো হয়েছে, পুলিশ তা বাজেয়াপ্ত করেছে। এর পরেই ফোনটি ‘মুম্বই পুলিশ’-এর ভুয়ো আধিকারিকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযুক্তরা মহিলাকে ভয় দেখায় যে তিনি বড়সড় অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। গ্রেপ্তারি এড়াতে তাঁকে টাকা জমা দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রাণভয়ে ওই মহিলা নিজের ফ্ল্যাট, এমনকী দুটি জমি বিক্রি করে প্রায় ২ কোটি টাকা তুলে দেন প্রতারকদের হাতে। বর্তমানে পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।
