আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট ন'টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের এসআইআর চলছে। সব জায়গার খসড়া তালিকা প্রকাশের পর, কত নাম বাদ পড়ল? প্রশ্ন ঘুরছিল। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ন'টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের খসড়া তালিকা থেকে প্রায় সাড়ে ছ'কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
কোন কোন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া?
পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিসগঢ়, গোয়া, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ এবং লাক্ষাদ্বীপ, পুদুচেরি, আন্দামান ও নিকোবরে চলছে এসআইআর। তথ্য এই ১২টি জায়গার মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০কোটি ৯০ লক্ষ। তার মধ্যে প্রায় সাড়ে ছ'কোটি নাম বাদ গিয়েছে খসড়া তালিকায়। ওই জায়গাগুলিতে পৃথক খসড়া তালিকা প্রকাশের পর, মোট ভোটার সংখ্যা কমে প্রায় ৪৪.৪ কোটিতে দাঁড়িয়েছে, তথ্য তেমনটাই। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, কমিশন জানিয়েছে, খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নামগুলিকে 'এএসডি' বা অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত এবং মৃত, একাধিক জায়গায় নাম নথিভুক্ত বিভাগে রাখা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বাদ পড়েছে রেকর্ড সংখ্যক ভোটার। গো-বলয়ের এই রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ২.৮৯ কোটি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। যা সে রাজ্যের মোট ভোটারের ১৮.৭ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২০২২-এ উত্তর প্রদেশে ভোটার সংখ্যা ছিল ১৫.৪৪ কোটি। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ার পর, বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকায় ১২.৫৬ কোটি-তে (১২,৫৫,৫৬,২৫) দাঁড়িয়েছে। তথ্য, যোগী রাজ্যের বাদ যাওয়া ২.৮৯ কোটির মধ্যে ৪৬.২৩ লাখ মৃত ভোটার। ২.১৭ কোটি ভোটার তাঁদের ঠিকানা বদলেছেন। ২৫.৪৭ লক্ষের নাম একাধিক জায়গায় নথিভুক্ত ছিল। উত্তর প্রদেশের সিইও নবদীপ রিনওয়ার দেওয়া তথ্য অনুসারে, ভোটারদের বাদ পড়াদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি লখনউ, গাজিয়াবাদ, প্রয়াগরাজ এবং কানপুর-সহ শহরাঞ্চলগুলোতে।
৯টি রাজ্য এবং ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর খসড়া তালিকা প্রকাশের কাজটি তিনবার বিলম্বিত হয়। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর, নির্বাচন কমিশন ৬ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক মাসের জন্য বাদ পড়া ভোটারদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, আপত্তি এবং সংশোধনের জন্য আবেদন গ্রহণ করবে।
কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভোটাররা ইসিআইনেট অ্যাপ ব্যবহার করে ফোনের মাধ্যমেও খসড়া তালিকায় তাদের নাম আছে কিনা তা যাচাই করতে পারবেন। চূড়ান্ত তালিকাটি ৬ই মার্চ প্রকাশিত হবে।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, শহর বনাম গ্রাম, ফর্ম জমায় বড় ফারাক চোখে পড়েছে কমিশনের। কমিশনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, SIR প্রক্রিয়ায় শহরাঞ্চলে এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহের হার গ্রামীণ এলাকার তুলনায় অনেকটাই কম। ফলে শহরের ভোটার তালিকায় বাদ পড়ার হার তুলনামূলক বেশি বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা।
নির্বাচন কমিশনের দাবি, SIR-এর মূল উদ্দেশ্য হল জন্মস্থানের তথ্য যাচাই করে অবৈধ বিদেশি অভিবাসীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া।
