আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঋণখেলাপী পলাতক ব্যবসায়ী বিজয় মালিয়া বুধবার বম্বে হাইকোর্টকে জানিয়েছেন যে, তিনি ভারতে ফিরে আসার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারছেন না। কারণ তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে এবং ব্রিটেনের আদালতের নির্দেশ মোতাবেক তিনি ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ছেড়ে যেতে পারবেন না।
মালিয়া তাঁর আইনজীবী অমিত দেশাইয়ের মাধ্যমে বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখর এবং বিচারপতি গৌতম অঙ্কড়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চের সামনে এই বক্তব্য জানিয়েছেন। আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশের প্রেক্ষিতে মালিয়ার তরফে এই বক্তব্য দাখিল করা হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে বম্বে হাইকোর্ট বিজয় মালিয়ার কাছ থেকে জানতে চেয়েছিল যে, তিনি পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী ঘোষণার আদেশ এবং পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁর আবেদনগুলি অনুসরণ করার সময় বিচারের মুখোমুখি হতে ভারতে ফিরে আসতে চান কিনা।
২০১৬ সালের মার্চ মাসে ভারত ছেড়ে যাওয়া মালিয়ার বিরুদ্ধে কয়েক হাজার কোটি টাকার একাধিক ঋণ পরিশোধে খেলাপি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-র অধীনে মামলার শুনানি করে একটি বিশেষ আদালত বিজয় মালিয়াকে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী ঘোষণা করে। এই ঘোষণার পর, তাঁর বিরুদ্ধে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বিজয় মালিয়ার বিবৃতি অনুসারে, ব্রিটেনের আদালত আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে তিনি যাতায়াত করতে পারছেন না। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ইংল্যান্ডের আদালতের গৃহীত আদেশ অনুসারে, আবেদনকারীকে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ছেড়ে যাওয়ার বা ত্যাগ করার চেষ্টা করার বা কোনও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নথির জন্য আবেদন করার বা তাঁর কাছে থাকার অনুমতি নেই। যাই হোক না কেন, আবেদনকারী কখন তিনি ভারতে ফিরে আসবেন তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছেন না।"
দেশাই আরও বলেছেন যে, পলাতক অপরাধীর তকমা এবং আইনের বিধানগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের আবেদনগুলি শোনার জন্য বিজয় মালিয়ার ভারতে উপস্থিতি অপরিহার্য নয়।
আবেদনের বিরোধিতা করে, কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দিয়েছিলেন যে- মালিয়া হাইকোর্টের অসাধারণ রিট এখতিয়ার প্রয়োগ করেছেন, যা প্রকৃতিগতভাবে ন্যায়সঙ্গত। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, আবেদনকারী আইন মেনে চলেন না। ফলে তিনি আদালত থেকে কোনওভাবেই মুক্তি চাইতে পারেন না। মেহতা যুক্তি উপস্থাপন করেন যে, "আইনে এটা একটা স্থায়ী অবস্থান যে- আইন মেনে না চলা ব্যক্তিকে এই আদালতের বিশেষাধিকার দেওয়া যাবে না।"
যুক্তি শোনার পর, বেঞ্চ বিজয় মালিয়ার জমা দেওয়া অনানুষ্ঠানিক বিবৃতিকে হলফনামা হিসেবে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী মাসে বিষয়টির পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
















