আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাইক দুর্ঘটনায় আহত স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করে খুন করলেন স্ত্রী এবং তাঁর প্রেমিক। সামান্য বাইক দুর্ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই মৃত্যু হয় প্রাক্তন সেনাকর্মী সন্দীপ মঞ্জার্গির।
জানা গিয়েছে, প্রথমে সন্দীপের মৃত্যুকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে দেখানো হলেও তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কর্নাটকের বেলাগাভি জেলায় হাসপাতালেই পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে সন্দীপকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় মৃতের স্ত্রী, তাঁর প্রেমিক সহ জড়িয়ে রয়েছেন হাসপাতালের কর্মীও। ঘটনায় ফরেনসিক সংস্থার একাধিক কর্মী-সহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ মার্চ একটি সামান্য বাইক দুর্ঘটনায় আহত হন সন্দীপ মঞ্জার্গি নামে ওই ব্যক্তি। প্রথমে তাঁকে হুক্কেরি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর স্ত্রী সুমা মঞ্জার্গি তাঁকে ঘটপ্রভার জিজি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
১৫ মার্চ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্দীপের মৃত্যু হয়। হাসপাতালের নথিতে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর দেহ পাঠানো হয় BIMS হাসপাতালে।
প্রাথমিক ফরেনসিক রিপোর্টেও বিষক্রিয়ার কোনও প্রমাণ মেলেনি। মৃত্যুর কারণ হিসেবে লেখা হয় কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কথা। তবে তদন্তকারীদের সন্দেহ হয় এরপরেই। কারণ, বাইক দুর্ঘটনায় সন্দীপের গুরুতর কোনও আঘাত লাগেনি।
হাসপাতালে ভর্তি হলেও তিনি শারীরিকভাবে সুস্থই ছিলেন। তদন্তে মোড় আসে যখন সুমার প্রেমিক পুন্ডলিক ডোম্বার সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে একটি সাধারণ দুর্ঘটনার পর হঠাৎ মৃত্যু হতে পারে।
পুলিশের দাবি, ওই পোস্ট থেকেই নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। পুলিশের সন্দেহ হয়, ওই ব্যক্তির কাছে ভিতরের তথ্য যাচ্ছে কীভাবে? পুন্ডলিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
জেরার সময় ডোম্বার গোটা ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেন। তদন্তে জানা যায়, ব্যবসায়িক সূত্রে সন্দীপ ও ডোম্বারের পরিচয় ছিল। তাঁরা যৌথভাবে একটি হোটেলের ব্যবসাও শুরু করেছিলেন।
সেই সময় থেকেই সুমা ও ডোম্বারের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, সন্দীপের নামে তিনটি আলাদা সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার জীবনবিমা করা হয়েছিল।
সেই টাকা হাতানোর লক্ষ্যেই পরিকল্পিত ভাবে খুনের ছক কষা হয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, জিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমা ও ডোম্বার স্যালাইনের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করেন এবং ঘুমের ওষুধও খাওয়ান।
এরপর মৃত্যুকে স্বাভাবিক দেখাতে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। হাসপাতালের নথি, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং অন্যান্য সরকারি রেকর্ডে কারচুপিরও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বিষক্রিয়ার প্রমাণ লোপাট করতে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তা যাতে ধরা না পড়ে, তার জন্য হাসপাতাল কর্মী, ফরেনসিক বিভাগের কর্মী এবং কয়েকজন সরকারি আধিকারিককে কাজে লাগানো হয়েছিল।
ফরেনসিক রিপোর্টে প্রভাব খাটাতে ৩ লক্ষ টাকারও বেশি ঘুষ দেওয়া হয়েছিল বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ বিষের পাত্র, সিরিঞ্জ, মোবাইল ফোন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে।
একইসঙ্গে এই ঘটনায় আরও বড় কোনও চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মামলায় সুমা, তাঁর প্রেমিক পুন্ডলিক ডোম্বার সহ একাধিক সরকারি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।















