আজকাল ওয়েবডেস্ক: বানান ভুলের জের। চার বছরের শিশুকন্যাকে বেধড়ক মারধর। বাবার পিটুনিতেই মর্মান্তিক পরিণতি হল তার। বাবার কীর্তি ফাঁস করল সাত বছরের নাবালক। অবশেষে পুলিশের জালে ঘাতক বাবা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার ফরিদাবাদে। পুলিশ জানিয়েছে, চার বছরের শিশুকন্যাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। এক থেকে ৫০ পর্যন্ত লিখতে বলা হয়েছিল শিশুকন্যাকে। কয়েকটি বানান ভুল লেখার জেরেই শিশুকন্যাকে বেধড়ক মারধর করেন তার বাবা। গুরুতর চোট পেয়েই শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, শিশুকন্যার মৃত্যুর পর তার মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ৩১ বছরের কৃষ্ণ জয়সওয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার। পরিবারটি আগে উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রে থাকত। সম্প্রতি ফরিদাবাদে ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করে।
বানান ভুল লেখার জন্য চার বছরের শিশুকন্যাকে বেলন দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন কৃষ্ণ। এরপর মেঝেতেও ছুড়ে ফেলেন। মাথায় গুরুতর চোট পায় ওই শিশুকন্যা। এরপর তড়িঘড়ি হাসপাতালে মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন, খেলতে খেলতে সিঁড়ি থেকে পড়ে গেছে শিশুকন্যা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেই চিকিৎসকরা শিশুকন্যাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রথমে বিষয়টি দুর্ঘটনাই জানতেন শিশুকন্যার মা। পরে দম্পতির ছেলে, সাত বছরের নাবালক মাকে জানায়, বোনকে পিটিয়ে খুন করেছেন বাবা। এরপরই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন গৃহবধূ।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এমন আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। কষা মাংস খেতে চেয়েছিল ভাইবোন। যে আবদার শুনেই চরম পদক্ষেপ করেন তাদের মা! দুই ছেলেমেয়েকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। মায়ের পিটুনিতে শেষমেশ মর্মান্তিক হয় সাত বছরের এক নাবালকের। গুরুতর আহত হয়েছে নাবালিকাও। যে ঘটনায় শিউরে ওঠেন প্রতিবেশীরা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল মহারাষ্ট্রের পালগড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাংস খেতে চাওয়ায় দুই সন্তানকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল তাদের মায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনায় সাত বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। গুরুতর আহত হয় তার দিদি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ৪০ বছরের পল্লবী নিরামিষ খাবার রান্না করেছিলেন রবিবার। সেদিন মুরগির মাংস খেতে চেয়েছিল ভাইবোন। দুই সন্তানের দাবি শুনে ব্যাপক রেগে যান পল্লবী। অবশেষে রান্নাঘর থেকে বেলন দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন ছেলেমেয়েকে। গুরুতর চোট পেয়ে বাড়িতে জ্ঞান হারায় সাত বছরের শিশু।
দুই শিশুর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তড়িঘড়ি খবর পাঠান পুলিশে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই পুলিশ সাত বছরের শিশু ও দশ বছর বয়সি নাবালিকাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গুরুতর আহত অবস্থায় নাবালিকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
