আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহারে ফের তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। রবিবার বীরপুর ব্যারেজ থেকে প্রচুর পরিমাণে জল ছাড়া হয়েছে। সেই কারণেই এই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে অগস্ট মাসের শেষে তৈরি হয়েছিল বন্যা পরিস্থিতি।
জানা গিয়েছে, ভোর পাঁচটা নাগাদ কোসি নদীর বীরপুর ব্যারেজে প্রায় ৬.৬১ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে যা ৫৬ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। শেষ বার এত পরিমাণ জল ছাড়া হয়েছিল ১৯৬৮ সালে, তখন তার পরিমাণ ছিল ৭.৭৮ লক্ষ কিউসেক।
এই বিপুল জল ছাড়ার ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্লাবিত হতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকা। বিহার প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গত দুই-তিন দিন ধরে ক্রমাগত বৃষ্টিপাতের ফলে রাজ্য জুড়ে গন্ডক, কোসি, বাগমতি, বুড়ি গন্ডক, কমলা বালান এবং মহানন্দা এবং গঙ্গা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি নেপালের ক্যাচমেন্ট এলাকায় অবিরাম বৃষ্টিপাত হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলির বেশ কয়েকটি জায়গায় নদীর জল ইতিমধ্যেই বিপদসীমা অতিক্রম করছে বা বিপদসীমার উপরে বইছে।
জানা গিয়েছে, শুধু বীরপুর ব্যারেজই নয়, গন্ডকের বাল্মীকিনগর ব্যারেজ থেকেও শনিবার সন্ধ্যায় ৫.৩৮ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোসি ব্যারাজের কাছে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ওই দুই ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পরে অতিরিক্ত জল পশ্চিম ও পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, আরারিয়া, সুপল, কাটিহার, পূর্ণিয়া এবং আরও কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে, এমনটাই জানিয়েছে প্রশাসন। বিহারের বেশ কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে আইএমডি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আগামী দিনগুলোতে। এর মধ্যে পশ্চিম ও পূর্ব চম্পারন, সীতামারহি, শেওহর, মুজাফফরপুর, গোপালগঞ্জ, সিওয়ান, সরণ, বৈশালী, পাটনা, জেহানাবাদ, মধুবনি এবং ভোজপুর জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলে এই জেলাগুলিতে বন্যার ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে। প্রশাসন তবে আগাম সতর্ক বার্তা জারি করেছে। বন্যা মোকাবিলায় টিম প্রস্তুত করেছে বলেই সূত্রে খবর। বিহারের বক্সার, ভোজপুর, সরণ, পাটনা, সমস্তিপুর, বেগুসরাই, মুঙ্গের এবং ভাগলপুর সহ গঙ্গার ধারে অবস্থিত প্রায় ১৩ টি জেলা ইতিমধ্যেই বন্যার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন। নিচু এলাকায় বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক লোককে সরিয়ে নিয়ে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে আসা হয়েছে।
















