আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি। এর জেরে রবিবাসরীয় সকালে চরম হাহাকার দেখা দিল ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দরে। ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে আকাশপথ বন্ধ হওয়ায় হাজার হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী এখন দিশেহারা। পরিস্থিতি এমনই যে, রবিবার এক দিনেই ভারতের বিভিন্ন বিমান সংস্থার ৪৪৪টি উড়ান বাতিল করতে হয়েছে।
শনিবার ভোরে ইরানকে লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই কার্যত অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্য। এই আবহে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একের পর এক দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে এশিয়া থেকে ইউরোপ বা পশ্চিমী দেশগুলিতে যাওয়ার আকাশপথ এখন কার্যত বন্ধ। ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ জানিয়েছে, শনিবারও প্রায় ৪০০ উড়ান বাতিল হয়েছিল। আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত ইরান, ইজরায়েল, সৌদি আরব, দুবাই-সহ ১১টি দেশের আকাশপথ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিমান সংস্থাগুলিকে।
দিল্লি থেকে মুম্বই কিংবা চেন্নাই- সর্বত্রই এখন আটকে পড়া যাত্রীদের ভিড়। রাজস্থানের সোমনাথ দিল্লি এসেছিলেন লেবানন যাওয়ার বিমান ধরতে। তিনি অসহায় ভাবে জানালেন, "এখন কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।" একই দশা লন্ডনের বাসিন্দা সন্দীপেরও। অফিস জয়েন করার তাড়া থাকলেও ফেরার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। দুবাই ঘুরতে যাওয়ার সব আয়োজন সেরেও দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন এক পর্যটক দম্পতি। তাঁদের আক্ষেপ, হোটেলের টাকা থেকে শুরু করে ফেরার টিকিট- সব মিলিয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার জোগাড়।
এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, আকাশা এয়ারের মতো প্রায় সব বড় সংস্থাই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের পরিষেবা আপাতত বন্ধ রেখেছে।
শনিবার ভোরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই সংঘাত চরম আকার নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দাবি, ইরানের পরমাণু হুমকি চিরতরে শেষ করতেই এই হামলা। এর পাল্টা হিসেবে ইজরায়েল এবং আরব দেশগুলিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে শয়ে শয়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। যার জেরে এখন থমকে গিয়েছে বিদেশের আকাশপথ।
